১২:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
পৃথিবীর প্রথম ভাসমান মদশিল্পী মিশেল রোলাঁর মৃত্যু: বিশ্ব মদশিল্পে অম্লান প্রভাব ইরানের যুদ্ধ: পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে ও মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—জেপি মরগান সিইও কেরালায় কংগ্রেস এগিয়ে, বড় জয় নাও হতে পারে: শশী থারুর অসম মুখ্যমন্ত্রী: খেরার অভিযোগের পেছনে পাকিস্তানের সম্পর্ক রাহুল গান্ধী জ্বালানির দামে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন, বললেন অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি, নির্বাচন কমিশনে কংগ্রেসের আবেদন ঢাকায় প্রাক্তন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, পুনর্বহালের দাবিতে ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ লাইন, উত্তেজনা বেড়েই চলেছে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা স্থগিতের আবেদন খারিজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে স্বস্তি দিল না সুপ্রিম কোর্ট আমিরাতে সংকটে প্রবাসী বাংলাদেশিরা: আয় কমে তলানিতে, রেমিট্যান্সে শঙ্কা

এখন থেকেই ভোট পাহারার ডাক: জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের আহ্বান শফিকুর রহমানের

ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পাহারাদারি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো জালিয়াত, ভোটচোর বা অবৈধ শক্তি যেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিজয়ের মালা পরিয়ে দিয়ে তবেই ঘরে ফেরার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য ও উপস্থিতি
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী।

ঐক্যের লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার ভিত্তিতেই ১১ দল একত্রিত হয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া, যে স্বপ্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ ধারণ করে আছে। তিনি দাবি করেন, এই ঐক্য চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্যসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয়ও জনগণেরই হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আপত্তি
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অতীতে আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে অন্যায় গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন আবার একই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ভোটের দিন নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে সব ধরনের রেকর্ডিং নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা ও সতর্কবার্তা
তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পরাজয়ের ভয়ে হতাশ হয়ে নির্বাচনকে ভিন্ন পথে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অস্ত্র মজুত ও ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোট ছিনিয়ে নেওয়ার দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারবে না।

ঢাকা-১৩ আসনের পরিস্থিতি
ঢাকা-১৩ আসনকে মর্যাদাপূর্ণ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু গোষ্ঠীর কারণে এলাকাটি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্যে জর্জরিত। বিভ্রান্ত তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

জনগণের সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং দেশের কোটি মানুষের পক্ষে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়, বরং পুরো জাতির বিজয়ই তাদের লক্ষ্য বলে জানান।

জনসমর্থন ও ভবিষ্যৎ বার্তা
শফিকুর রহমান দাবি করেন, অতীতে যাদের কর্মকাণ্ড জনগণ দেখেছে, তাদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে। শান্তিপ্রিয় জনগণ শেষ পর্যন্ত জনগণের পক্ষের শক্তিকেই সমর্থন দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণদের অবস্থানকেও তিনি সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সতর্ক করে বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো পথ গ্রহণ করলে তা জাতি মেনে নেবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপথ থেকে পৃথিবীর বিস্ময়কর দৃশ্য: আর্টেমিস-II ক্রদের অভিজ্ঞতা

এখন থেকেই ভোট পাহারার ডাক: জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের আহ্বান শফিকুর রহমানের

০৭:৪৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন থেকেই পাহারাদারি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো জালিয়াত, ভোটচোর বা অবৈধ শক্তি যেন জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিজয়ের মালা পরিয়ে দিয়ে তবেই ঘরে ফেরার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবেশে বক্তব্য ও উপস্থিতি
সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী।

ঐক্যের লক্ষ্য নতুন বাংলাদেশ
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এবং জুলাই আন্দোলনের চেতনার ভিত্তিতেই ১১ দল একত্রিত হয়েছে। তাদের লক্ষ্য একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া, যে স্বপ্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ ধারণ করে আছে। তিনি দাবি করেন, এই ঐক্য চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা বাণিজ্যসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয়ও জনগণেরই হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আপত্তি
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, অতীতে আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে অন্যায় গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন আবার একই ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ভোটের দিন নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে সব ধরনের রেকর্ডিং নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং তা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা ও সতর্কবার্তা
তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পরাজয়ের ভয়ে হতাশ হয়ে নির্বাচনকে ভিন্ন পথে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অস্ত্র মজুত ও ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভোট ছিনিয়ে নেওয়ার দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারবে না।

ঢাকা-১৩ আসনের পরিস্থিতি
ঢাকা-১৩ আসনকে মর্যাদাপূর্ণ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু অসাধু গোষ্ঠীর কারণে এলাকাটি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্যে জর্জরিত। বিভ্রান্ত তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

জনগণের সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং দেশের কোটি মানুষের পক্ষে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচিত হলে দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়, বরং পুরো জাতির বিজয়ই তাদের লক্ষ্য বলে জানান।

জনসমর্থন ও ভবিষ্যৎ বার্তা
শফিকুর রহমান দাবি করেন, অতীতে যাদের কর্মকাণ্ড জনগণ দেখেছে, তাদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেছে। শান্তিপ্রিয় জনগণ শেষ পর্যন্ত জনগণের পক্ষের শক্তিকেই সমর্থন দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণদের অবস্থানকেও তিনি সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সতর্ক করে বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো পথ গ্রহণ করলে তা জাতি মেনে নেবে না।