১২:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬
পৃথিবীর প্রথম ভাসমান মদশিল্পী মিশেল রোলাঁর মৃত্যু: বিশ্ব মদশিল্পে অম্লান প্রভাব ইরানের যুদ্ধ: পণ্যের মূল্য বাড়তে পারে ও মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—জেপি মরগান সিইও কেরালায় কংগ্রেস এগিয়ে, বড় জয় নাও হতে পারে: শশী থারুর অসম মুখ্যমন্ত্রী: খেরার অভিযোগের পেছনে পাকিস্তানের সম্পর্ক রাহুল গান্ধী জ্বালানির দামে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন, বললেন অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি, নির্বাচন কমিশনে কংগ্রেসের আবেদন ঢাকায় প্রাক্তন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, পুনর্বহালের দাবিতে ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ লাইন, উত্তেজনা বেড়েই চলেছে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা স্থগিতের আবেদন খারিজ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে স্বস্তি দিল না সুপ্রিম কোর্ট আমিরাতে সংকটে প্রবাসী বাংলাদেশিরা: আয় কমে তলানিতে, রেমিট্যান্সে শঙ্কা

বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মাবলম্বীর দেশ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মাবলম্বীর সমান দেশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে নির্যাতনের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
ভাষণের শুরুতে তিনি জুলাইয়ের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের দাবিতেই জুলাইয়ের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের মানবাধিকার সংকট, ভোটাধিকার হরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রতিবাদ থেকেই এই গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।

নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের দাবি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশ বা ‘বাংলাদেশ ২.০’-এর স্বপ্ন দেখছে এবং সাধারণ মানুষও বাস্তব পরিবর্তন চায়। তবে ক্ষমতাসীন একটি গোষ্ঠী সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অন্যায় ও অপকর্মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

তরুণদের ভূমিকা ও রাষ্ট্রগঠনের আহ্বান
তিনি তরুণদের দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সাহস, মেধা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সামর্থ্যের মাধ্যমে তারাই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে। জুলাইয়ের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার জন্য তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন ও গণভোট
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই-পরবর্তী সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এসব সংস্কার স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জনগণকে গণভোটে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও নারীর অধিকার
জামায়াত ক্ষমতায় এলে সততা, ইনসাফ, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে নারীরা সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে সমান মর্যাদায় অংশ নিতে পারবেন।

সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাবলিগ জামাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।

ভোটের আহ্বান ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বার্তা
ভাষণের শেষাংশে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব একটি আমানত, এটি ভোগের বিষয় নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পৃথিবীর প্রথম ভাসমান মদশিল্পী মিশেল রোলাঁর মৃত্যু: বিশ্ব মদশিল্পে অম্লান প্রভাব

বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মাবলম্বীর দেশ: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

০৭:৫৮:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মাবলম্বীর সমান দেশ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে নির্যাতনের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট
ভাষণের শুরুতে তিনি জুলাইয়ের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের দাবিতেই জুলাইয়ের আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের মানবাধিকার সংকট, ভোটাধিকার হরণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রতিবাদ থেকেই এই গণআন্দোলন গড়ে ওঠে।

নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের দাবি
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশ বা ‘বাংলাদেশ ২.০’-এর স্বপ্ন দেখছে এবং সাধারণ মানুষও বাস্তব পরিবর্তন চায়। তবে ক্ষমতাসীন একটি গোষ্ঠী সেই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অন্যায় ও অপকর্মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

তরুণদের ভূমিকা ও রাষ্ট্রগঠনের আহ্বান
তিনি তরুণদের দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সাহস, মেধা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের সামর্থ্যের মাধ্যমে তারাই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে। জুলাইয়ের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার জন্য তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন ও গণভোট
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই-পরবর্তী সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এসব সংস্কার স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জনগণকে গণভোটে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও নারীর অধিকার
জামায়াত ক্ষমতায় এলে সততা, ইনসাফ, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে নারীরা সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে সমান মর্যাদায় অংশ নিতে পারবেন।

সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকারভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাবলিগ জামাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন।

ভোটের আহ্বান ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বার্তা
ভাষণের শেষাংশে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব একটি আমানত, এটি ভোগের বিষয় নয়।