দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও নির্ধারিত সময়ে আদালতে দাখিল করা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ঢাকার একটি আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুল হককে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন কেন এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি।
আদালতের নির্দেশ ও নতুন তারিখ
সোমবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দেন। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুল হক আদালতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারক এ নির্দেশ জারি করেন। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ১২৪ তম বারের মতো পিছিয়ে দিয়ে আগামী ১ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও টাস্কফোর্স গঠন
এর আগে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত সরকারকে ছয় মাসের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশনার পর ২৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পিবিআই প্রধানের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করে। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মামলাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙার সংবাদ সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় উপস্থিত ছিল তাদের সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। ঘটনার পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে উদ্বেগ
এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত শেষ না হওয়া এবং বারবার সময়সীমা বাড়ানোয় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে হতাশা বাড়ছে। সর্বশেষ আদালতের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হাজিরা ও ব্যাখ্যা চাওয়াকে মামলার অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















