ভারতের বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি টানা তৃতীয় মাসের মতো বাড়তে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের এক জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে। খাদ্যদ্রব্যের দাম শক্ত থাকা এবং সোনা–রুপার মূল্যবৃদ্ধি একসঙ্গে কাজ করায় জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আগের বছরের অনুকূল ভিত্তি প্রভাব কমে যাওয়াও এই বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন তথ্যভিত্তিক সূচকে প্রথম হিসাব
জানুয়ারি মাস থেকেই ২০২৪ সালের মূল্যকে ভিত্তি ধরে নতুন ধারার তথ্য প্রকাশ শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি হবে গত আগস্টের পর প্রথম সময়, যখন মূল্যস্ফীতি আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ থেকে ৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ভেতরে ফিরতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে যাওয়া ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্যে পণ্যের ওজন কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে খাদ্যের অংশ কমে প্রায় ৩৭ শতাংশে নেমে আসছে, যা আগে ছিল প্রায় ৪৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস
জরিপে অংশ নেওয়া বহু অর্থনীতিবিদ নতুন তথ্যপদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে স্পষ্ট পূর্বাভাস দিতে অপেক্ষা করছেন। ডিসেম্বর মাসে পুরোনো ধারায় মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ, সেখান থেকে জানুয়ারিতে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফনের সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে। বিভিন্ন পূর্বাভাসের সীমা প্রায় ১ দশমিক ৪০ থেকে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
খাদ্য ও মূল মূল্যস্ফীতির চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের কম দামের প্রভাব তুলনা থেকে বাদ পড়ায় খাদ্যদ্রব্য ও মূল মূল্যস্ফীতি দুটিই কিছুটা বাড়তে পারে। খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির উপাদান বাদ দিলে যে অন্তর্নিহিত মূল্যচাপ বোঝা যায়, সেটিও জানুয়ারিতে তুলনামূলক উঁচু অবস্থানে থাকতে পারে। একই সময়ে সোনা ও রুপার দামও জানুয়ারিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। যদিও পরবর্তী সময়ে এই দাম কিছুটা কমেছে।

ভবিষ্যতে অস্থিরতা কমার আশা
অর্থনীতিবিদদের বড় অংশ মনে করছেন, নতুন ওজন কাঠামো চালু হলে মূল্যস্ফীতির ওঠানামা আগের তুলনায় কম হবে। পুরোনো সূচকে খাদ্যের অংশ বেশি থাকায় সরবরাহের ধাক্কায় মূল্যস্ফীতি দ্রুত পরিবর্তিত হতো এবং গড় পরিবারের ভোগব্যয়ের বাস্তব চিত্রও ঠিকভাবে প্রতিফলিত হতো না। সংশোধিত সূচকে প্রধান ব্যয়ের খাত ছয়টি থেকে বাড়িয়ে বারোটি করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো অনলাইন বাণিজ্য, ডিজিটাল সেবা, বিমানভাড়া, টেলিযোগাযোগ প্যাকেজসহ নতুন কিছু খাত এতে যুক্ত হচ্ছে।
পাইকারি মূল্যেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি
পাইকারি মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতি জানুয়ারিতে কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডিসেম্বরের তুলনায় সামান্য উঁচু হয়ে এটি প্রায় ১ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















