পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ সহজ করা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর ইসরায়েলের নতুন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক আরব দেশ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যত দখলকৃত ভূখণ্ড কে সংযুক্ত করার দিকে ই ইঙ্গিত করছে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করছে।
নতুন সিদ্ধান্তে কী পরিবর্তন
ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি এমন কিছু এলাকায়ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম বাড়ানো হবে, যেগুলো পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে কার্যত শেষ করে দেবে।

আরব ও মুসলিম দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করবে। তাদের অভিযোগ, বসতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে সেখানে অবৈধ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য, অধিকাংশ দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকেই সংঘাত সমাধানের একমাত্র বাস্তব পথ হিসেবে দেখে আসছে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘ মহাসচিব পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে মাঠপর্যায়ের বর্তমান পদক্ষেপ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বও অতীতে এমন সংযুক্তিকরণের বিরোধিতা করেছে বলে জানা গেছে। ফলে নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পশ্চিম তীরে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতির ফলে শুধু বসতি সম্প্রসারণই সহজ হবে না, বরং ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংস এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সীমিত করার পথও উন্মুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল শহরগুলোতে জমি বাজেয়াপ্ত, বসতি বৃদ্ধি এবং ঘরবাড়ি ভাঙার ঝুঁকি বাড়বে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















