দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মাঝেই আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজার পরিস্থিতি। দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ এলাকায় ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এসে গুলি চালানোর ঘটনায় চারজন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। একই দিনে পৃথক ঘটনায় গুলিতে নিহত হয়েছেন এক ফিলিস্তিনি কৃষকও। নতুন করে এই সহিংসতা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
রাফাহে সংঘর্ষ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ঘটনাটিকে তারা অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে। হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও সংগঠনঘনিষ্ঠ সূত্র একজন নিহত ব্যক্তিকে শীর্ষ নেতার সন্তান হিসেবে শনাক্ত করেছে।

গাজা সিটিতে বিমান হামলা
দিনের পরের দিকে গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় আরও তিন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রতিক্রিয়াতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
সুড়ঙ্গে আটকে থাকা যোদ্ধা ও চলমান উত্তেজনা
যুদ্ধবিরতির পর থেকে রাফাহ অঞ্চলের সুড়ঙ্গগুলোতে বহু হামাস যোদ্ধা আটকা পড়ে আছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘর্ষে তাদের অনেকে নিহত হয়েছে। একই সময়ে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় গুলিতে এক কৃষকের মৃত্যু নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যদিও এ ঘটনায় ইসরায়েলের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

চাপের মুখে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ
বারবার সহিংসতায় নড়বড়ে হয়ে পড়ছে যুদ্ধবিরতি। দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চাইছে চুক্তির পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি হোক। পরবর্তী পর্যায়ে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী মোতায়েনের মতো জটিল বিষয় সমাধানের কথা বলা হয়েছে।
যুদ্ধের মানবিক মূল্য
যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য। একই সময়ে গাজায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলা দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা সত্তর হাজার ছাড়িয়েছে।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















