বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রকৃতিকে রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। নতুন এক বৈশ্বিক মূল্যায়নে তুলে ধরা হয়েছে, অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে যেসব প্রাকৃতিক ব্যবস্থার ওপর ব্যবসা নির্ভর করে, সেগুলো দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে এবং এই ধারা চলতে থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে শিল্প ও বাণিজ্যের ওপর।
প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সেবা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এবং এতে বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের অবদান রয়েছে। দেড় শতাধিক সরকার এটি অনুমোদন দিয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিতে পারে, নইলে শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রজাতির পাশাপাশি নিজেদের টিকে থাকা ও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রকৃতির অদৃশ্য সেবার ওপর নির্ভরতা
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিষ্কার পানি, উর্বর মাটি, পরাগায়ন সহ নানা প্রাকৃতিক সেবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে পেয়ে থাকে। অথচ জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এখন ব্যবসার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকির একটি। বাস্তবতা এমন যে অনেক সময় প্রকৃতি ধ্বংস করাই স্বল্পমেয়াদে বেশি লাভজনক মনে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অগ্রগতি মাপার জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা ও কার্যকর উপকরণ জরুরি। যুক্তরাজ্যের বহু প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অপরিহার্য দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।
প্রকৃতি ও কৃষির যৌথ পথচলা

সমারসেটের স্টিয়ার্ট জলাভূমি এলাকায় প্রকৃতি পুনরুদ্ধার ও কৃষিকাজ একসঙ্গে এগোনোর একটি উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। এখানে গবাদি পশু চরানো হচ্ছে এমনভাবে, যাতে পাখি, পোকামাকড় ও উদ্ভিদের জন্য স্বাস্থ্যকর আবাস তৈরি হয়। বিভিন্ন ধরনের ঘাস খাওয়া ও মাটি চাপা দেওয়ার মাধ্যমে পশুগুলো বন্যপ্রাণীর উপযোগী পরিবেশ গঠনে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে উৎপন্ন হচ্ছে উন্নতমানের মাংস।
এই জলাভূমি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ও সুরক্ষা তৈরি করেছে। নতুনভাবে নির্মিত বাঁধ আশপাশের গ্রামগুলোকে বন্যার পানি থেকে রক্ষা করছে, জলাভূমি কার্বন শোষণ করছে এবং দূষণ কমাতে সহায়তা করছে। ফলে কৃষি হারিয়ে যাচ্ছে না, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন রূপ নিচ্ছে।
অবনতির পেছনে প্রণোদনা ও করণীয়

প্রতিবেদনটি বলছে, জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন ভর্তুকি, ব্যবসায়িক চাপ এবং প্রভাব পরিমাপে বিভ্রান্তি প্রকৃতির ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করছে। তবু বাস্তবতা হলো, প্রকৃতি সংরক্ষণ কোনো দূরবর্তী পরিবেশগত বিষয় নয়; এটি প্রতিটি পরিচালনা পর্ষদের জন্য মৌলিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্যে প্রতিবেদন দেয় এমন প্রতিষ্ঠানের এক শতাংশেরও কম তাদের কার্যক্রমের জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব উল্লেখ করে। গবেষকদের মতে, এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন না হলে ব্যবসার ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















