দুবাইয়ে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক রাতযাপনকারী দর্শনার্থীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। টানা তৃতীয় বছরের মতো রেকর্ড গড়ার মাধ্যমে বিশ্ব পর্যটনের অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে আমিরাতটি। দুবাই অর্থনীতি ও পর্যটন দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারা বছরে হোটেলের গড় দখল হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ।
হোটেল খাতে ধারাবাহিক চাহিদা
২০২৫ সালে দখলকৃত হোটেল কক্ষসংখ্যা ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার রাত। শহরজুড়ে ৮২৭টি প্রতিষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৪টি কক্ষ এই প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে নতুন হোটেল চালু হওয়ায় সব স্তরেই আবাসন সুবিধা সম্প্রসারিত হয়েছে। গড় দৈনিক কক্ষভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫৭৯ দিরহাম, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। প্রাপ্য কক্ষপ্রতি আয়ও ১১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৭ দিরহামে। পর্যটকেরা গড়ে ৩ দশমিক ৭ রাত অবস্থান করেছেন, যা অবকাশযাপন, ব্যবসা ও বিভিন্ন আয়োজনকেন্দ্রিক ভ্রমণের স্থায়ী চাহিদা নির্দেশ করে।

বছরের শেষে নতুন মাইলফলক
ডিসেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো এক মাসে দুই মিলিয়নের বেশি আন্তর্জাতিক দর্শনার্থী পেয়েছে দুবাই। ওই মাসে দর্শনার্থীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৪০ হাজার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। এই সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স ও নির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। তাঁর মতে, টানা তিন বছর রেকর্ড অর্জন দুবাইকে সারা বছরের গন্তব্য হিসেবে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বৈশ্বিক শীর্ষ তিন পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিচ্ছে।
কোন অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক
পশ্চিম ইউরোপ ২০২৫ সালেও দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় উৎসবাজার ছিল। এ অঞ্চল থেকে এসেছে ৪১ লাখ দর্শনার্থী, যা মোট আগমনের ২১ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের জোট ও পূর্ব ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশসমূহ—প্রতিটি অঞ্চল থেকেই প্রায় ২৯ লাখ দর্শনার্থী এসেছে, যা মোটের প্রায় ১৫ শতাংশ করে। উপসাগরীয় অঞ্চল বাদে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে এসেছে ২১ লাখ ৭০ হাজার দর্শনার্থী। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ১৮ লাখ ৫০ হাজার, আমেরিকা অঞ্চল থেকে ১৪ লাখ, আফ্রিকা থেকে প্রায় ৮ লাখ ৯৭ হাজার এবং অস্ট্রেলেশিয়া অঞ্চল থেকে এসেছে ৪ লাখের কিছু বেশি দর্শনার্থী।

অর্থনীতিতে পর্যটনের ভূমিকা
দুবাই অর্থনীতি ও পর্যটন দপ্তরের মহাপরিচালক হেলাল সাঈদ আলমারির মতে, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই খাত জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণে সহায়তা করছে। কৌশলগত অংশীদারত্ব, আন্তর্জাতিক প্রচারণা, বড় আয়োজন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি।
বৈশ্বিক সংযোগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে ২০২৫ সালেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা পর্যটক প্রবাহ বাড়াতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সারা বছরজুড়ে উৎসব, প্রদর্শনী ও ক্রীড়া আয়োজনও চাহিদা স্থিতিশীল রেখেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শক্তিশালী পারফরম্যান্স ২০২৬ সালের জন্য ইতিবাচক গতি তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং টেকসই পর্যটন উদ্যোগে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছে দুবাই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















