সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে তবেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কমানোর বিষয়ে এগোতে পারে তেহরান—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার নেতৃত্ব। একই সময়ে দেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে গ্রেপ্তার ও সাজা বাড়ানোর ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীর ছয় বছরের কারাদণ্ড আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরান জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা কমানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নির্ভর করছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ওপর। ওমানে মধ্যস্থতায় সাম্প্রতিক বৈঠকে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত মিললেও সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা ও একেবারে দূর হয়নি। গত বছরে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভ দমন ও কূটনৈতিক বার্তা একসঙ্গে
সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর একদিকে সমালোচকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করেছে তেহরান, অন্যদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার দরজা ও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। সংস্কারপন্থী জোটের কয়েকজন নেতাসহ বিভিন্ন কর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাকে আটক করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব বিক্ষোভ বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।

দেশের সর্বোচ্চ নেতা জনগণের দৃঢ়তা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জাতীয় শক্তি শুধু অস্ত্র বা সামরিক সক্ষমতায় নয়, মানুষের ইচ্ছাশক্তিতে ও নির্ভর করে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত ও মিলছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়ানো যায়।
ইউরেনিয়াম কমানো নিয়ে শর্ত
ইরান বলছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কমানো মানে তা অন্য উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে সমৃদ্ধতার স্তর নিচে নামিয়ে আনা, যাতে অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে। তেহরানের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল জ্বালানি ও গবেষণার জন্য, যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছে।
ওমানে আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আনার আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য উদ্বেগ খুব একটা দেখা যায়নি।
নার্গিস মোহাম্মদীর সাজা ও গ্রেপ্তার অভিযান

জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষুন্ন করার অভিযোগে শান্তিতে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে আরও দেড় বছরের সাজা যুক্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড ও নারীদের বাধ্যতামূলক পোশাক বিধির বিরোধিতায় সক্রিয় থাকার কারণে তিনি আগেও কারাবন্দি ছিলেন। নতুন রায়ে তার কারাবাস আরও দীর্ঘ হতে পারে এবং শারীরিক শাস্তির আশঙ্কা ও রয়েছে।
সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ভিন্নমতাবলম্বীদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করেছে। অতীতের গণ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও আন্তর্জাতিক হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ কয়েক হাজার মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















