জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে ভোট কেনাবেচা ও নারীদের জন্য বিশেষ পোশাক প্রস্তুতের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি দাবি করেছেন, এসব বিষয়ে কমিশনকে অবহিত করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। বৈঠকে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং সাবেক নির্বাচন সচিব ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া।
ভোট কেনাবেচা ও বিশেষ পোশাক বিতরণের অভিযোগ

নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে লক্ষাধিক নারীর জন্য বিশেষ পোশাক তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও ব্যালট পেপার ছাপা ও সরঞ্জাম জব্দের খবরও এসেছে। এত কিছু প্রকাশ্যে আসার পরও নির্বাচন কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি প্রকাশ্যে ভোটারদের মধ্যে অর্থ বিতরণ করছেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তবে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট—অনৈতিক, অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি
বিএনপি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলের প্রার্থী ও পোলিং এজেন্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমিশনের অধীনে থাকলেও কেন এসব ঘটনা আগেভাগে শনাক্ত হচ্ছে না। তার মতে, নির্বাচন শুধু ভোটের দিনের বিষয় নয়; পূর্ববর্তী সময়ের অনিয়ম রোধ করাও কমিশনের দায়িত্ব।

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা
গণমাধ্যমে কিছু জেলা প্রশাসকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো গুজবও হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে নিশ্চিত করা যে কোনো কর্মকর্তা দলীয় আচরণে জড়াবেন না। এ ধরনের কিছু প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশাবাদ
নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখনো এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যা নির্বাচন ব্যাহত করতে পারে। যারা নির্বাচন চায় না, তারা অংশ নিচ্ছে না। অংশগ্রহণকারী দলগুলো একটি বিশ্বাসযোগ্য ভোট চায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি বড় ব্যবধানে জয়ী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ব্যালট বাক্স পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্ভব হলে ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্স পাঠানোই ভালো। তবে দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে আগের রাতে পাঠানো যুক্তিযুক্ত হতে পারে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে একাধিক তালা থাকবে এবং ভোট শেষে অতিরিক্ত তালা সংযোজন করা হবে। পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতেই তা খোলা হবে বলে তিনি জানান।
জঙ্গি হামলার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের হুমকি অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অতিরঞ্জিত করা হয়। কেবল আইন প্রয়োগে নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেই এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















