যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক স্থিতি ও গবেষণাগত প্রতিযোগিতা নতুন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত শরতে নতুন আন্তর্জাতিক স্নাতক শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রায় পঁচিশ শতাংশ কমে যায়, আর স্নাতকোত্তর পর্যায়েও পতন ঘটে সাতাশ শতাংশের বেশি। সামগ্রিকভাবে দেশজুড়ে নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির হার কমেছে প্রায় সতেরো শতাংশ, যা উচ্চশিক্ষা খাতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভিসা অনিশ্চয়তা ও বহিষ্কারের প্রভাব
গত বসন্তে হঠাৎ করে বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়, তবু অনিশ্চয়তার আবহ কাটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং গবেষণা তহবিল কমে যাওয়ার মতো নীতিগত পরিবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি নীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও গবেষণায় চাপ
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত পূর্ণ ফি প্রদান করে, যা অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বড় আর্থিক সহায়তা। উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীরা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ফি দেয়। এই আয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমে গেলে বাজেট সংকোচন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ শতাংশ ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা বছরে বিপুল অর্থ ব্যয় করে থাকে।
চীনসহ বৈশ্বিক শিক্ষার্থী প্রবাহে পরিবর্তন
একসময় যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল চীনের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু দুই হাজার উনিশ সালের পর থেকে সেই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। অনিশ্চিত নীতি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীকে অন্য দেশে পড়াশোনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গবেষকেরা সতর্ক করছেন, এতে দীর্ঘমেয়াদে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে প্রতিভার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা
বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কেউ দেশে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন, কেউ আবার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে রাখছেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখলেও নীতিগত অস্থিরতা তাদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে গেলে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ই নয়, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি শিক্ষার্থী নেওয়া সীমিত করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক মেধা প্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 
























