০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
ইন্দোনেশিয়ার বন্যায় বিলুপ্তির ঝুঁকি বেড়েছে তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের, এক বছরে হারিয়েছে অন্তত ৭ শতাংশ  কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের শঙ্কা, বিপাকে পাহাড়ি জনপদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত সবাই পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানে নিহত ১৩, নিহতদের মধ্যে ১১ শিশু অঘোষিত সম্পদ বৈধ করার নতুন সুযোগ, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ করের প্রস্তাব শ্বেতাঙ্গ ত্রাণকর্তার মঞ্চ নাকি জাতির আত্মসমালোচনার সময়? বগুড়ায় এসআইকে কুপিয়ে মামলার নথি ছিনতাই, তদন্তে পুলিশ মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৪.২ শতাংশে, ইরান যুদ্ধের জ্বালানি ধাক্কায় বাড়ছে মার্কিন অর্থনীতির চাপ ওমানকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন শক্তির সংজ্ঞা যদি পুরুষতন্ত্র লিখে দেয়, তবে নারীরা জিতবে কীভাবে?

মণিপুরে সহিংসতা অব্যাহত, ৪০টির বেশি বাড়িতে আগুন; পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ

মণিপুরের উখরুল জেলায় কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতা এখনো থামেনি। সপ্তাহান্তে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেছে।

সহিংসতার সূচনা ও পেছনের কারণ
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার সূচনা হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বড় ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, উভয় পক্ষের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো সমাধানের কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।

সংঘর্ষের বিস্তার
গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে উখরুলের লিতান গ্রামে তাংখুল নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের পর বহু বাড়ি ও অফিসে আগুন লাগানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় কিছু নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে মারামারি থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুষ্কৃতকারীরা ৪০টির বেশি বাড়িতে আগুন দেয়।

সরকারের পদক্ষেপ
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং উভয় সম্প্রদায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনের নেতাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। উপমুখ্যমন্ত্রী লোসিই দিখো বলেন, “এই সহিংসতার পেছনে অল্প কয়েকজন ব্যক্তি দায়ী। দুই পক্ষই শান্তি ও সম্প্রীতি চায়। সরকার দোষীদের গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে।”

জেলা প্রশাসন অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নির্দেশ অমান্য করলে অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। লিতান সারেইখং গ্রাম কর্তৃপক্ষও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রদায়গুলোর উদ্বেগ
তাংখুল নাগা লং-এর সহসভাপতি আরএস জলি সন বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা চলতে থাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নিজেদের ভূমিতেই তাংখুল নাগারা কতটা নিরাপদ। তিনি জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন এবং নাগা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে উখরুল কুকি ছাত্র সংগঠনের সহসভাপতি মার্সি খংসাই বলেন, শুরুতে এটি ছিল কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ, কিন্তু এখন দুই সম্প্রদায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোথাও যোগাযোগের ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কেন বিষয়টি সমাধান করা কঠিন হয়ে উঠেছে, সেটিও বোঝার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান অবস্থা
উখরুলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো শান্তি ফিরিয়ে আনতে তৎপর থাকলেও দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ার বন্যায় বিলুপ্তির ঝুঁকি বেড়েছে তাপানুলি ওরাংওটাংয়ের, এক বছরে হারিয়েছে অন্তত ৭ শতাংশ 

মণিপুরে সহিংসতা অব্যাহত, ৪০টির বেশি বাড়িতে আগুন; পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ

০৫:৩২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মণিপুরের উখরুল জেলায় কয়েক দিন ধরে চলা সহিংসতা এখনো থামেনি। সপ্তাহান্তে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ৪০টির বেশি বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেছে।

সহিংসতার সূচনা ও পেছনের কারণ
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, একটি সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতার সূচনা হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ বড় ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকে এক সরকারি মুখপাত্র বলেন, উভয় পক্ষের নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে এখনো সমাধানের কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।

সংঘর্ষের বিস্তার
গত ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার রাতে উখরুলের লিতান গ্রামে তাংখুল নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের পর বহু বাড়ি ও অফিসে আগুন লাগানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় কিছু নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে মারামারি থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুষ্কৃতকারীরা ৪০টির বেশি বাড়িতে আগুন দেয়।

সরকারের পদক্ষেপ
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং উভয় সম্প্রদায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনের নেতাদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। উপমুখ্যমন্ত্রী লোসিই দিখো বলেন, “এই সহিংসতার পেছনে অল্প কয়েকজন ব্যক্তি দায়ী। দুই পক্ষই শান্তি ও সম্প্রীতি চায়। সরকার দোষীদের গ্রেপ্তার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে।”

জেলা প্রশাসন অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নির্দেশ অমান্য করলে অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। লিতান সারেইখং গ্রাম কর্তৃপক্ষও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

সম্প্রদায়গুলোর উদ্বেগ
তাংখুল নাগা লং-এর সহসভাপতি আরএস জলি সন বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা চলতে থাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নিজেদের ভূমিতেই তাংখুল নাগারা কতটা নিরাপদ। তিনি জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন এবং নাগা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে উখরুল কুকি ছাত্র সংগঠনের সহসভাপতি মার্সি খংসাই বলেন, শুরুতে এটি ছিল কয়েকজন ব্যক্তির মধ্যে সংঘর্ষ, কিন্তু এখন দুই সম্প্রদায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোথাও যোগাযোগের ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কেন বিষয়টি সমাধান করা কঠিন হয়ে উঠেছে, সেটিও বোঝার চেষ্টা চলছে।

বর্তমান অবস্থা
উখরুলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলো শান্তি ফিরিয়ে আনতে তৎপর থাকলেও দীর্ঘদিনের জমি বিরোধ ও পারস্পরিক অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।