০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ধানের শীষ জনপ্রিয় সাপ্লিমেন্ট কি সত্যিই প্রয়োজন? খাদ্য থেকেই কতটা পাওয়া যায় জানুন ইউএই-এর স্কুলে ভর্তির বয়স নিয়ম পরিবর্তনে মা-বাবাদের জন্য নমনীয়তার দাবি পশ্চিম তীরের বসতি কাজ বন্ধ করুন: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাবি ঘোড়ার বছরে একাত্মতার উৎসব, এক্সপো সিটিতে ৩ হাজারের বেশি শিল্পীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ভারতে ই-সিগারেট নিষেধাজ্ঞা বজায়, ফিলিপ মরিসের লবিংয়ের পরেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রমজান উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিদ্যালয় সময়সূচি সমন্বয় কানাডার স্কুলে রক্তাক্ত হামলা, নিহত অন্তত ৯: স্তব্ধ জাতি, শোকে বিশ্ব ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘রেড লাইন’, কোনো সমঝোতা নয়: ইরান নির্বাচিত হলে আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়েই দেশ চালাতে চাই: তারেক রহমান

শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ধানের শীষ

সমকালের একটি শিরোনাম “ফল ঘোষণায় ‘বিলম্ব’ নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের “

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকটি আসনের ভোটের ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বেশ কিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট, কিন্তু স্থানীয়ভাবে যারা রিটার্নিং অফিসার আছেন তারা ঘোষণা দিচ্ছেন না, ঝুলিয়ে রেখেছেন। আমরা বুঝতে পারছি না এটা কেন?’

তিনি অভিযোগ করেন,‘ওয়েবসাইটে কে কয়টা আসন পেয়েছে সেটা দেওয়া হলো। মাঝখান থেকে উধাও হয়ে গেলো, আবার নাই। আমাদের লোকদের বসিয়ে রাখা হলো দীর্ঘসময়। এই একটু আগে ১০টা ১২টা কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন।’

ফলাফল বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই যে কিছু আসনে ইঁদুর বিড়াল খেলা। এমনকি ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন, সেখানে কী হচ্ছে? এটা আপনারা সাংবাদিকরা জানেন। এই বিষয়গুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় বহন করে না।’

নির্বাচন কমিশনের প্রতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে তারা ১৩ তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানাবে। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি, তারা দেন কিনা। যদি দিয়ে থাকেন ভালো। না দিলে আমরা সঙ্গত সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।’

এই সামগ্রিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে নিজেদের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করার কথা জানান তিনি। তবে তারা তাদের নির্বাচনী আচরণ ইতিবাচক রাখবেন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক ধারা রাজনীতি করতে চাই। রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয় তাহলে এটা মেনে নিতে হবে। পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো রাজনীতি হয় না।’
বেসরকারি ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়া নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”অবশেষে ঢাকা-৮ আসনের ফল প্রকাশ, জয়ী মির্জা আব্বাস”

ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী শুক্রবার ভোর রাত পৌনে চারটায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন।

শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮ টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬।

অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫ টি। তাতে তাঁর পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭ টি।

অর্থাৎ বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানী জয়ী হয়েছেন।

এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেফায়েত উল্লা হাতপাখা মার্কায় মোট ১ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মেঘনা আলম ৬০৮ ভোট পেয়েছেন।

ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪ টি। বাতিল হয় ২ হাজার ৮১৭ টি। বৈধ ভোট হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭ টি। এ আসনে পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ৬ হাজার ১২ টি। বাতিল হয় ৩২০ টি।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ধানের শীষ”

উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সারা দেশে কয়েকটি ছোট বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচনে সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য বলছে, বেলা ২টা পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজারের কিছু বেশি কেন্দ্রে গড়ে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোট পড়ার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। এ বিষয়ে আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর শুরু হয় গণনা। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২২০টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো বিজয়ী হয়েছে ১৭০টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৪৫টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত ৪১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী তিন আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্য প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন পাঁচটি আসনে। বেসরকারি ফলাফলের এ চিত্র থেকে দেখা যায়, বিএনপি সংখাগরিষ্ঠের পথে রয়েছে। তবে গণভোটের ফলাফল গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ শুরু হয়নি।

প্রায় ২০০ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পরাজিত হয়েছেন দলটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর-৩ আসনে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) পেয়েছে একটি আসন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুসারে, গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দলটি থেকে নির্বাচিত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কক্সবাজার-১ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভোলা-৩ আসনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর, চাঁদপুর-১ আসনে এহসানুল হক মিলন, কুমিল্লা-৩ আসনে শাহ মোফাজ্জল হোসেন, ঝিনাইদহ-১ আসনে আসাদুজ্জামান, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ। বিএনপি জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি।

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “নির্বাচন ছিল ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’”

বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’ ও ‘প্রতারণামূলক’ আখ্যা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগবিহীন ও ভোটারবিহীন একটি নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ভোট কেনাবেচায় টাকার ছড়াছড়ি, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘প্রহসনের সূচনা’ হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে সারাদেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য বলে দাবি করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তার দাবি, ভোটগ্রহণের উৎকর্ষ সময়ে জনগণের এই কম অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচন জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিগত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের ভোটার, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর লাগাতার হামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তবুও সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা এই প্রতারণামূলক নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ, সকল রাজবন্দির মুক্তি, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ধানের শীষ

শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ধানের শীষ

০৭:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সমকালের একটি শিরোনাম “ফল ঘোষণায় ‘বিলম্ব’ নিয়ে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের “

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েকটি আসনের ভোটের ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বেশ কিছু আসনে আমাদের জানামতে আমরা এগিয়ে আছি। গণনাও কমপ্লিট, কিন্তু স্থানীয়ভাবে যারা রিটার্নিং অফিসার আছেন তারা ঘোষণা দিচ্ছেন না, ঝুলিয়ে রেখেছেন। আমরা বুঝতে পারছি না এটা কেন?’

তিনি অভিযোগ করেন,‘ওয়েবসাইটে কে কয়টা আসন পেয়েছে সেটা দেওয়া হলো। মাঝখান থেকে উধাও হয়ে গেলো, আবার নাই। আমাদের লোকদের বসিয়ে রাখা হলো দীর্ঘসময়। এই একটু আগে ১০টা ১২টা কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন।’

ফলাফল বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই যে কিছু আসনে ইঁদুর বিড়াল খেলা। এমনকি ঢাকা-৮ আসন এখনো ঝুলে থাকবে কেন, সেখানে কী হচ্ছে? এটা আপনারা সাংবাদিকরা জানেন। এই বিষয়গুলো সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিচয় বহন করে না।’

নির্বাচন কমিশনের প্রতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে তারা ১৩ তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানাবে। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছি, তারা দেন কিনা। যদি দিয়ে থাকেন ভালো। না দিলে আমরা সঙ্গত সীমা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।’

এই সামগ্রিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে নিজেদের চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গী প্রকাশ করার কথা জানান তিনি। তবে তারা তাদের নির্বাচনী আচরণ ইতিবাচক রাখবেন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ইতিবাচক ধারা রাজনীতি করতে চাই। রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয় তাহলে এটা মেনে নিতে হবে। পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে কোনো রাজনীতি হয় না।’
বেসরকারি ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়া নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”অবশেষে ঢাকা-৮ আসনের ফল প্রকাশ, জয়ী মির্জা আব্বাস”

ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী শুক্রবার ভোর রাত পৌনে চারটায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন।

শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮ টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬।

অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫ টি। তাতে তাঁর পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭ টি।

অর্থাৎ বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানী জয়ী হয়েছেন।

এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী কেফায়েত উল্লা হাতপাখা মার্কায় মোট ১ হাজার ৪৩৬ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ট্রাক প্রতীকের মেঘনা আলম ৬০৮ ভোট পেয়েছেন।

ঢাকা-৮ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪ টি। বাতিল হয় ২ হাজার ৮১৭ টি। বৈধ ভোট হয় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭ টি। এ আসনে পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ৬ হাজার ১২ টি। বাতিল হয় ৩২০ টি।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “শান্তিপূর্ণ ভোট, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে ধানের শীষ”

উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে গতকাল অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সারা দেশে কয়েকটি ছোট বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচনে সহিংসতার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য বলছে, বেলা ২টা পর্যন্ত দেশের ৩৬ হাজারের কিছু বেশি কেন্দ্রে গড়ে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোট পড়ার হার প্রায় ৬০ শতাংশ। এ বিষয়ে আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর শুরু হয় গণনা। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২২০টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায় সংখ্যাগরিষ্ঠের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো বিজয়ী হয়েছে ১৭০টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৪৫টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত ৪১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী তিন আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্য প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন পাঁচটি আসনে। বেসরকারি ফলাফলের এ চিত্র থেকে দেখা যায়, বিএনপি সংখাগরিষ্ঠের পথে রয়েছে। তবে গণভোটের ফলাফল গতকাল এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ শুরু হয়নি।

প্রায় ২০০ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটিতেও জিততে পারেননি জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পরাজিত হয়েছেন দলটির দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুর-৩ আসনে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) পেয়েছে একটি আসন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুসারে, গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দলটি থেকে নির্বাচিত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কক্সবাজার-১ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কুমিল্লা-১ আসনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভোলা-৩ আসনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর, চাঁদপুর-১ আসনে এহসানুল হক মিলন, কুমিল্লা-৩ আসনে শাহ মোফাজ্জল হোসেন, ঝিনাইদহ-১ আসনে আসাদুজ্জামান, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ। বিএনপি জোটের প্রার্থীদের মধ্যে ভোলা-১ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জয়ী হয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি।

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “নির্বাচন ছিল ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’”

বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘সুপরিকল্পিত প্রহসন’ ও ‘প্রতারণামূলক’ আখ্যা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটাধিকার ও সংবিধানের চেতনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামী লীগবিহীন ও ভোটারবিহীন একটি নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ভোট কেনাবেচায় টাকার ছড়াছড়ি, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের মধ্য দিয়ে ‘প্রহসনের সূচনা’ হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে সারাদেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য বলে দাবি করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। তার দাবি, ভোটগ্রহণের উৎকর্ষ সময়ে জনগণের এই কম অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচন জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিগত কয়েক দিন ধরে আওয়ামী লীগের ভোটার, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের ওপর লাগাতার হামলা, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তবুও সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা এই প্রতারণামূলক নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ, সকল রাজবন্দির মুক্তি, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।