ইসলামাবাদে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্টে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির ৮৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
সুপ্রিম কোর্টে উপস্থাপিত প্রতিবেদনের তথ্য
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতির মামলায় ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন তিনি। তার দাবি, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে। তবে সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তার আইনজীবী সালমান সাফদার সুপ্রিম কোর্টে জানান, ইমরান খানের ডান চোখে এখন মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট আছে। বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া প্রতিবেদনে তিনি ইমরান খানের বক্তব্য তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে তিনি স্থায়ী ঝাপসা ও ঘোলাটে দেখার সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও চিকিৎসা প্রসঙ্গ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আইনজীবী দুই ঘণ্টা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেন। আদালত কর্তৃপক্ষকে ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইমরান খানকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে তথ্য মন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, চলতি মাসে ইমরান খানকে হাসপাতালে নিয়ে ২০ মিনিটের একটি চোখের চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিটিআইয়ের প্রতিক্রিয়া
ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এক বিবৃতিতে বলেছে, আদালতের নির্দেশ দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তারা আরও দাবি করেছে, তার পছন্দের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং হেফাজতে তার জীবনের ঝুঁকি তৈরি করে এমন কৌশল বন্ধ করতে হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তার দলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হয়। তা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
তবে দলটির অভিযোগ, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তাদের আরও বেশি আসন পাওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যাতে অন্য দলগুলো জোট সরকার গঠন করতে পারে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও তার মিত্ররা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার অবনতি ইমরান খানের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা নিয়ে এখন নজর রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















