আইনের শাসন নিয়ে উদ্বেগ
সার্বিয়ার সাম্প্রতিক বিচার সংস্কার ইউরোপীয় ইউনিয়নে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ব্রাসেলস এখন ১.৬ বিলিয়ন ইউরো ঋণ ও অনুদান স্থগিত রাখার কথা বিবেচনা করছে। এই অর্থ পশ্চিম বলকান অঞ্চলের উন্নয়ন প্যাকেজের অংশ, যা অবকাঠামো, জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতে ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। তবে কৌঁসুলি ও আদালতের ক্ষমতা পরিবর্তনকারী আইন পাসের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ইইউ সম্প্রসারণ কমিশনার মার্তা কস জানান, প্রয়োজন হলে অর্থ আটকে রাখা হবে।
নতুন আইনে প্রধান কৌঁসুলিদের মেয়াদ ছয় বছরে সীমিত করা হয়েছে এবং আদালত সভাপতিদের মামলার বণ্টন ও বিচারকদের মূল্যায়নের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। সরকার বলছে এতে জবাবদিহি বাড়বে; বিরোধীরা বলছে এতে নির্বাহী প্রভাব বাড়বে। ভেনিস কমিশন আগেই সতর্ক করেছিল যে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২০০৯ সালে ইইউ সদস্যপদের আবেদন করার পর সার্বিয়া ৩৫ টি অধ্যায়ের মধ্যে ২২ টি খুলেছে। তবে গণতান্ত্রিক মানদণ্ড ও বৈদেশিক নীতিতে দ্বিধা নিয়ে অগ্রগতি ধীর হয়েছে। ব্রাসেলস স্পষ্ট করেছে যে আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে তহবিল ছাড়া হবে না। কমিশনার কস বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দুর্নীতি দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ ঝুলে থাকবে।
১.৬ বিলিয়ন ইউরোর প্যাকেজটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি স্থগিত হলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন সিদ্ধান্ত নেবে কমিশনের অবস্থান সমর্থন করবে কি না।

এই বিতর্ক প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের জন্যও রাজনৈতিক পরীক্ষা। ব্রাসেলসের চাপ মেনে আইন পরিবর্তন করলে জাতীয়তাবাদী সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। আবার পরিবর্তন না করলে ইইউ-পথ আরও কঠিন হবে। ফলে বিচার সংস্কার এখন সার্বিয়ার ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় যাত্রার কেন্দ্রে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















