যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট আর্থিক ব্যবসায়ী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের কাণ্ড বিশ্ব রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক আইকন জ্যাক ল্যাং, নরওয়ের কূটনীতিক মোনা জুল, এবং স্লোভাকিয়ার সাবেক মন্ত্রী মিরোস্লাভ লাজক প্রমাণ করেছেন যে, এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ফ্রান্সে সাংস্কৃতিক মঞ্চে ধাক্কা
ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং শনিবার ঘোষণা করেছেন যে তিনি আরব বিশ্ব ইনস্টিটিউটের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ল্যাং এবং তার পরিবারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এপস্টেইনের সঙ্গে তদন্তাধীন। ৮৬ বছর বয়সী ল্যাং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে থাকলেও এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
নরওয়েতে তদন্ত ও পদত্যাগ
মোনা জুল, যিনি জর্ডান ও ইরাকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ছিলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন। নরওয়ের পুলিশ ইতিমধ্যেই জুল ও তার স্বামী টেরজে রড লারসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইড বলেন, জুলের বিচারবুদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুতর ত্রুটি দেখা গেছে।
স্লোভাকিয়ায় কূটনৈতিক সতর্কতা
স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিরোস্লাভ লাজকও এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইল প্রকাশিত হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন। সেখানে লাজক এবং এপস্টেইনের কথোপকথন যুবতী নারীদের বিষয় নিয়ে অনেক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। লাজক দাবি করেছেন যে তিনি কোনো যৌন অপরাধে অংশ নেননি এবং কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্যও জানতেন না।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক উত্তেজনা
এপস্টেইনের সম্পর্কের তথ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাজ্যে পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব প্রাইম মিনিস্টার কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এপস্টেইনের ইমেইল কাণ্ড কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক আক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সমালোচনা চালিয়েছেন।
নরওয়ে ও ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়া
নরওয়ে পার্লামেন্ট স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করেছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থোরবর্ন জ্যাগল্যান্ড, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে মারিট, এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রধান বোরজ ব্রেন্ডে তাদের সম্পর্কের কারণে নজরদারিতে রয়েছেন। ফ্রান্সের ল্যাংয়ের নাম প্রায় ৬০০বার এপস্টেইনের নথিতে উঠে এসেছে, যা তার দীর্ঘকালীন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিচয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব
এপস্টেইনের নথি প্রকাশের পর, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকরা নিজেদের নাম এড়ানোর জন্য চাপের মুখে পড়েছেন। ফ্রান্স, নরওয়ে, স্লোভাকিয়া এবং অন্যান্য দেশে উঁচুমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা এই কাণ্ডের কারণে তাদের চাকরি, সুনাম এবং আইনি বিপদের মুখে পড়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















