চীনে ২০২৫ সালে বিয়ের নিবন্ধন কিছুটা বেড়েছে। এতে ২০২৬ সালে জন্মহার ঘুরে দাঁড়াতে পারে—এমন একটি আশার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশের গভীর জনমিতিক সংকট এখনো দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান, যা কেবল সাময়িক প্রবণতায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। টেকসই পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন বিস্তৃত নীতিগত সহায়তা।
বিয়ের সংখ্যায় লক্ষণীয় বৃদ্ধি
চীনের বেসামরিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশজুড়ে ৬৭ লাখ ৬০ হাজার বিয়ের নিবন্ধন হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এটি ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ৫৭ হাজার নতুন দম্পতি যুক্ত হয়েছে।

চীনে বিয়ের নিবন্ধনের সংখ্যা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কারণ, সাধারণত পরবর্তী বছরের জন্মহারের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। দেশের অনেক অঞ্চলে বিবাহবহির্ভূত সন্তানের জন্ম এখনো সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে বিয়ের সংখ্যা বাড়লে পরের বছর জন্মহার বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
জন্মহারে রেকর্ড পতন
বিয়ের এই সামান্য বৃদ্ধির মধ্যেই গত বছর চীনের জন্মসংখ্যা নেমে এসেছে রেকর্ড নিম্নস্তরে। ২০২৫ সালে দেশে জন্ম হয়েছে ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশু। ২০১৬ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় এক কোটির মতো কমেছে। এক দশকেরও কম সময়ে জন্মহার অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। টানা চতুর্থ বছরের মতো চীনের মোট জনসংখ্যাও হ্রাস পেয়েছে।

অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ
চীনের জনসংখ্যা সংকোচন এবং দ্রুত বার্ধক্যের দিকে অগ্রসর হওয়া বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে উৎপাদনশীলতা দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ায় পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বাড়বে। এতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দীর্ঘমেয়াদে চাপে পড়তে পারে।
রেকর্ড জনসংখ্যা হ্রাস
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের মোট জনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৪৯ লাখে, যা এক বছর আগে ছিল ১৪০ কোটি ৮৩ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে জনসংখ্যা কমেছে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার। সংখ্যার হিসেবে এটি ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন, ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষকাল বাদ দিলে।

আশার আলো, নাকি সাময়িক প্রবণতা?
বিয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও বিশ্লেষকদের মতে, চীনের জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ বহুস্তরীয় এবং দীর্ঘমেয়াদি। শুধু বিয়ের সংখ্যা বাড়লেই জন্মহার স্থায়ীভাবে বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কর্মসংস্থান, বাসস্থান ব্যয়, শিশুপালনের খরচ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন কঠিন হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















