০৬:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
মির্জা ফখরুলের নির্বাচনী জয়ের পর দেশের জন্য দোয়ার আবেদন ক্যান্সার সার্জারির অভিজ্ঞতা: দেহ ও মনকে যে শিক্ষা দিল ব্যথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগে ধীরগতি: CMA CGM-এর ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পূরণে বাধা ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক সংকট তীব্র হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে হংকংয়ে রাজনৈতিক নীরবতার শাস্তি: বিতাড়িত আন্দোলনকারীর পিতাকে সাত বছরের কারাদণ্ড যুক্তরাষ্ট্র‑চীন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: ট্রাম্পের এপ্রিল সফর কি বড় সমঝোতার সূচনা হতে পারবে বিচার সংস্কার ঘিরে সার্বিয়ার জন্য ইইউ তহবিল স্থগিতের ভাবনা এপস্টেইন কাণ্ডে বিশ্ব রাজনীতিতে ধাক্কা, নাম জড়ালো আন্তর্জাতিক শীর্ষ পর্যায়ের নায়করা টাইওয়ান হবে ট্রাম্প-শি বৈঠকের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ইস্যু ফ্রান্সের ব্যবসায়ী এলিটের বিশ্বাস জেতার পথে নেই জাতীয় র‍্যালি

২০২৬কে ‘দৃষ্টিভঙ্গির বছর’ হিসেবে গড়ার সম্ভাবনা ও ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণ নিয়ে জেমস জিমারম্যানের বিশ্লেষণ

এই প্রতিবেদনটি সারাংশ ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সহজ ভাষায় সংগঠিত করা হয়েছে।

চলতি বছর ২০২৬-এর শুরুতেই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মানচিত্রে দ্রুত পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে। ভেনিজুয়েলা, ইরান ও গ্রিনল্যান্ড‑সহ বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবর্তন বিশ্ব বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে কি? এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামী এপ্রিল মাসের চীন‑ভ্রমণ ও দুই দেশের সুদৃঢ় সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা বাড়ছে।

জেমস জিমারম্যান, যিনি আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন চায়না (AmCham China)-এর চেয়ারম্যান এবং চীনে দীর্ঘ ২৮ বছর বাস করে আমেরিকান ব্যবসায়িক পরিবেশ, আইন ও বিনিয়োগের অভিজ্ঞতায় দক্ষ একজন আইনজীবী, এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণ “গ্র্যান্ড বার্গেইন” বা এক বিশাল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আনতে নাও পারে এবং কেন ২০২৬‑কে “ভিশন ইয়ার” হিসেবে গড়তে হলে অন্য কৌশল প্রয়োজন হতে পারে।

2026 Chair and Vice Chairs Elected – AmCham China

জিমারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য সবচেয়ে বেশি চায় নিশ্চয়তা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং একটি শক্তিশালী আইনী ব্যবস্থা। এগুলোর অভাব থাকলে, সেখানকার অবস্থান যত বড় হোক বা অর্থনীতি যত শক্তিশালী হোক, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে, যার মধ্যে ভেনিজুয়েলা, ইরান ও গ্রিনল্যান্ড‑এর পরিস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর ফলে অনেক কোম্পানি বিনিয়োগের পরিকাঠামো ও বাজার‑নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছে এবং তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসাবে স্থিতিশীল নীতি ও আইনি কাঠামো অনুসন্ধান করছে।

জিমারম্যানের ভাষ্যে, বিশ্ব পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই অনিশ্চিত; এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা সম্পর্কিত মূল্যায়নও কিছুটা নেতিবাচক ছিল, যা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে জটিল করছে। প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে আইনী নিরাপত্তা, স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা থাকা জরুরি, তিনি বলেন।

Donald Trump aims to clinch deal with China's Xi during Asia trip - The  Hindu

ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণে সম্ভাব্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ‑চুক্তি নিয়ে জিমারম্যান মন্তব্য করেছেন যে, যদিও এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে, তা যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে “গ্র্যান্ড বার্গেইন” বা বিশাল অর্থনৈতিক সমঝোতায় পরিণত হবে তা নিশ্চিত নয়। তার বক্তব্যে তিনি যথাযথ প্রস্তুতি, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য এবং নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা কে গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্টের আলোচনায় বাস্তব উন্নয়ন হয়।

জিমারম্যান এছাড়াও সতর্ক করে বলেছেন যে অযৌক্তিক বা অপ্রমাণিত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে তা ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক উৎপাদন শৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমন নিয়ন্ত্রণ যদি রাজনৈতিক কারণে চাপানো হয়, তাহলে তা মোটেও ফলপ্রসূ হবে না।

জিমারম্যানের সার্বিক মন্তব্য থেকে বোঝা যায়:

• ব্যবসার জন্য বাজারে স্থিতিশীলতা এবং আইনগত নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
• ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণ একটি সুযোগ হতে পারে, কিন্তু তা নিজের মধ্যে একটি বড় দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা নিশ্চিত করে না।
• অযথা কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

Open Questions | James Zimmerman on how the US and China can make 2026 a ' year of vision' | South China Morning Post

সুতরাং, ২০২৬ কে একটি দৃষ্টিভঙ্গির বছর হিসেবে গড়ার জন্য প্রয়োজন হবে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে আরও গভীর, বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার কাঠামো, যা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে দাঁড়াবে।

শেষ পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট, পূর্বানুমানযোগ্য এবং সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করাই হবে ২০২৬ সালের মূল চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জা ফখরুলের নির্বাচনী জয়ের পর দেশের জন্য দোয়ার আবেদন

২০২৬কে ‘দৃষ্টিভঙ্গির বছর’ হিসেবে গড়ার সম্ভাবনা ও ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণ নিয়ে জেমস জিমারম্যানের বিশ্লেষণ

০৪:১০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এই প্রতিবেদনটি সারাংশ ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সহজ ভাষায় সংগঠিত করা হয়েছে।

চলতি বছর ২০২৬-এর শুরুতেই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মানচিত্রে দ্রুত পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে। ভেনিজুয়েলা, ইরান ও গ্রিনল্যান্ড‑সহ বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবর্তন বিশ্ব বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে কি? এই প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগামী এপ্রিল মাসের চীন‑ভ্রমণ ও দুই দেশের সুদৃঢ় সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা বাড়ছে।

জেমস জিমারম্যান, যিনি আমেরিকান চেম্বার অফ কমার্স ইন চায়না (AmCham China)-এর চেয়ারম্যান এবং চীনে দীর্ঘ ২৮ বছর বাস করে আমেরিকান ব্যবসায়িক পরিবেশ, আইন ও বিনিয়োগের অভিজ্ঞতায় দক্ষ একজন আইনজীবী, এই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণ “গ্র্যান্ড বার্গেইন” বা এক বিশাল দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আনতে নাও পারে এবং কেন ২০২৬‑কে “ভিশন ইয়ার” হিসেবে গড়তে হলে অন্য কৌশল প্রয়োজন হতে পারে।

2026 Chair and Vice Chairs Elected – AmCham China

জিমারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য সবচেয়ে বেশি চায় নিশ্চয়তা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং একটি শক্তিশালী আইনী ব্যবস্থা। এগুলোর অভাব থাকলে, সেখানকার অবস্থান যত বড় হোক বা অর্থনীতি যত শক্তিশালী হোক, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৬ সালের শুরুতে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে, যার মধ্যে ভেনিজুয়েলা, ইরান ও গ্রিনল্যান্ড‑এর পরিস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর ফলে অনেক কোম্পানি বিনিয়োগের পরিকাঠামো ও বাজার‑নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছে এবং তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসাবে স্থিতিশীল নীতি ও আইনি কাঠামো অনুসন্ধান করছে।

জিমারম্যানের ভাষ্যে, বিশ্ব পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই অনিশ্চিত; এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেনিজুয়েলা সম্পর্কিত মূল্যায়নও কিছুটা নেতিবাচক ছিল, যা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে জটিল করছে। প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে আইনী নিরাপত্তা, স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রক নীতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা থাকা জরুরি, তিনি বলেন।

Donald Trump aims to clinch deal with China's Xi during Asia trip - The  Hindu

ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণে সম্ভাব্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ‑চুক্তি নিয়ে জিমারম্যান মন্তব্য করেছেন যে, যদিও এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে, তা যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে “গ্র্যান্ড বার্গেইন” বা বিশাল অর্থনৈতিক সমঝোতায় পরিণত হবে তা নিশ্চিত নয়। তার বক্তব্যে তিনি যথাযথ প্রস্তুতি, বাস্তবসম্মত লক্ষ্য এবং নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা কে গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্টের আলোচনায় বাস্তব উন্নয়ন হয়।

জিমারম্যান এছাড়াও সতর্ক করে বলেছেন যে অযৌক্তিক বা অপ্রমাণিত রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে তা ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক উৎপাদন শৃঙ্খলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমন নিয়ন্ত্রণ যদি রাজনৈতিক কারণে চাপানো হয়, তাহলে তা মোটেও ফলপ্রসূ হবে না।

জিমারম্যানের সার্বিক মন্তব্য থেকে বোঝা যায়:

• ব্যবসার জন্য বাজারে স্থিতিশীলতা এবং আইনগত নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
• ট্রাম্পের চীন‑ভ্রমণ একটি সুযোগ হতে পারে, কিন্তু তা নিজের মধ্যে একটি বড় দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা নিশ্চিত করে না।
• অযথা কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

Open Questions | James Zimmerman on how the US and China can make 2026 a ' year of vision' | South China Morning Post

সুতরাং, ২০২৬ কে একটি দৃষ্টিভঙ্গির বছর হিসেবে গড়ার জন্য প্রয়োজন হবে আমেরিকা ও চীনের মধ্যে আরও গভীর, বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার কাঠামো, যা ব্যবসা, বিনিয়োগ ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে দাঁড়াবে।

শেষ পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট, পূর্বানুমানযোগ্য এবং সমন্বিত পরিবেশ তৈরি করাই হবে ২০২৬ সালের মূল চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ।