আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে জল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে তাইওয়ান প্রশ্ন। একই সঙ্গে তারা বেইজিং ও ওয়াশিংটনকে বাণিজ্য বিরোধের অধ্যায় থেকে বেরিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দুই মাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে তাইওয়ান প্রসঙ্গই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি এবং সামরিক সহযোগিতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ফলে শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকেও বিষয়টি বড় ধরনের মতবিরোধের জন্ম দিতে পারে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ
বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের সফরে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বিষয়টি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দ্রুত সমঝোতা হওয়া কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
এপ্রিলের শুরুতে বেইজিং সফরের সম্ভাবনা
ট্রাম্পের সম্ভাব্য সফরের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে তিনি এপ্রিলের শুরুতে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বৃহস্পতিবার সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানায়। ট্রাম্প নিজেও সফর নিয়ে বেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ৪ ফেব্রুয়ারি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি জানান, তিনি এই সফরের অপেক্ষায় আছেন।

ফোনালাপে দুই নেতার বার্তা
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপে শি জিনপিংও চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বড় ও ইতিবাচক সাফল্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তাই ইঙ্গিত দেয় যে আসন্ন বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু ঘিরেই সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















