আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই বড় ধাক্কা খেল সোনার দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার, বড় বাজারগুলোতে ছুটির কারণে লেনদেন কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রভাবে একদিনেই দুই শতাংশের বেশি পড়ে গেছে সোনা। এতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে নেমে এসেছে মূল্যবান এই ধাতু।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে আসে চার হাজার আটশো বাষট্টি ডলারে, যা ছয় ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে তা দাঁড়ায় চার হাজার নয়শো সতেরো ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির ফিউচার বাজারেও দুই শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে।
শক্তিশালী ডলারে চাপে সোনা
বিশ্ববাজারে ডলার সূচক প্রায় শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য সোনা কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় বাজারে ছুটির কারণে লেনদেন কম ছিল। চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চান্দ্র নববর্ষের ছুটি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্টস ডে উপলক্ষে বাজার বন্ধ ছিল। ফলে স্বাভাবিক চাহিদা না থাকায় দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
সুদের হার নিয়ে জল্পনা
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের জানুয়ারি বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বিনিয়োগকারীরা। বাজারে ধারণা, চলতি বছরে তিন দফা সুদ কমানো হতে পারে এবং প্রথম কাট হতে পারে জুনে। তবে ফেড শেষ পর্যন্ত কতটা আগ্রাসীভাবে সুদ কমাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সুদ কমলে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এখনো স্পষ্ট সংকেত না থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা নজরে
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যেও আলোচনার উদ্যোগ রয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কমে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার নিকটবর্তী প্রতিরোধ স্তর প্রায় পাঁচ হাজার একশো বিশ ডলার। দীর্ঘমেয়াদে বাজার আবারও পাঁচ হাজার ছয়শো ডলারের উচ্চতার দিকে অগ্রসর হতে পারে, তবে আপাতত ডলার ও সুদের দিকনির্দেশনাই নির্ধারণ করবে পরবর্তী গতি।
অন্যান্য ধাতুতেও পতন
শুধু সোনা নয়, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। রুপার দাম দুই শতাংশ নেমে গেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামেও প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গেছে।
সব মিলিয়ে শক্তিশালী ডলার, কম লেনদেন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার চাপে আপাতত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে সোনার বাজার। বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন ফেডের সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















