০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নিউ মেক্সিকোর জোরো র‍্যাঞ্চে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমোদন, এপস্টেইন কাণ্ডে নতুন রাজনৈতিক ঝড় মার্কিন-ইরান পারমাণবিক আলোচনার আগে এশিয়ার বাজারে সতর্কতা, তেলের দামে দোলাচল রাশিয়ার তেলের উৎপাদন সংকুচিত হতে পারে পশ্চিমা চাপের কারণে ইমরান খানের সন্তানদের উদ্বেগ অস্ট্রেলিয়ার টিটেনিয়াম পতন: আইরিশদের ‘ভাগ্য’ এ ভর করে টি২০ বিশ্বকাপ বাঁচানোর লড়াই জিরোনার আঘাতে হতাশ বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে লা লিগায় কিউবার হাভানায় সরকারি ট্রাক থেমে গেলে আবর্জনা ভরছে রাস্তায়: তেলের অভাবে স্যানিটেশন সংকট বাড়ছে অস্ট্রেলিয়া আইএস জঙ্গিদের পরিবারের প্রত্যাবর্তনে ‘না’ মিলানো কর্টিনায় ইতিহাস, দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জাপানের প্রথম জোড়া স্কেটিং সোনা জিতলেন রিকু মিউরা ও রিউইচি কিহারা ট্রাম্পের ‘পরোক্ষ’ অংশগ্রহণে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরমাণু আলোচনা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

সোনার দামে বড় ধস, শক্তিশালী ডলারে চাপে বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই বড় ধাক্কা খেল সোনার দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার, বড় বাজারগুলোতে ছুটির কারণে লেনদেন কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রভাবে একদিনেই দুই শতাংশের বেশি পড়ে গেছে সোনা। এতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে নেমে এসেছে মূল্যবান এই ধাতু।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে আসে চার হাজার আটশো বাষট্টি ডলারে, যা ছয় ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে তা দাঁড়ায় চার হাজার নয়শো সতেরো ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির ফিউচার বাজারেও দুই শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে।

Gold and silver slide as strong dollar sparks broad market sell-off | النهار

শক্তিশালী ডলারে চাপে সোনা

বিশ্ববাজারে ডলার সূচক প্রায় শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য সোনা কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় বাজারে ছুটির কারণে লেনদেন কম ছিল। চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চান্দ্র নববর্ষের ছুটি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্টস ডে উপলক্ষে বাজার বন্ধ ছিল। ফলে স্বাভাবিক চাহিদা না থাকায় দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

Gold slips on stronger dollar, US-China trade deal optimism - The Economic  Times

সুদের হার নিয়ে জল্পনা

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের জানুয়ারি বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বিনিয়োগকারীরা। বাজারে ধারণা, চলতি বছরে তিন দফা সুদ কমানো হতে পারে এবং প্রথম কাট হতে পারে জুনে। তবে ফেড শেষ পর্যন্ত কতটা আগ্রাসীভাবে সুদ কমাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সুদ কমলে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এখনো স্পষ্ট সংকেত না থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

Dollar Slides to Four-Month Low as Gold Surges Past $5,000 in Market  Turmoil | The Swamp

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা নজরে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যেও আলোচনার উদ্যোগ রয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সোনার নিকটবর্তী প্রতিরোধ স্তর প্রায় পাঁচ হাজার একশো বিশ ডলার। দীর্ঘমেয়াদে বাজার আবারও পাঁচ হাজার ছয়শো ডলারের উচ্চতার দিকে অগ্রসর হতে পারে, তবে আপাতত ডলার ও সুদের দিকনির্দেশনাই নির্ধারণ করবে পরবর্তী গতি।

Gold edges down on stronger US dollar, easing tariff concerns - The  Business Times

অন্যান্য ধাতুতেও পতন

শুধু সোনা নয়, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। রুপার দাম দুই শতাংশ নেমে গেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামেও প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে শক্তিশালী ডলার, কম লেনদেন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার চাপে আপাতত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে সোনার বাজার। বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন ফেডের সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিউ মেক্সিকোর জোরো র‍্যাঞ্চে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অনুমোদন, এপস্টেইন কাণ্ডে নতুন রাজনৈতিক ঝড়

সোনার দামে বড় ধস, শক্তিশালী ডলারে চাপে বাজার

০৩:১৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই বড় ধাক্কা খেল সোনার দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলার, বড় বাজারগুলোতে ছুটির কারণে লেনদেন কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রভাবে একদিনেই দুই শতাংশের বেশি পড়ে গেছে সোনা। এতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন দামে নেমে এসেছে মূল্যবান এই ধাতু।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে আসে চার হাজার আটশো বাষট্টি ডলারে, যা ছয় ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে তা দাঁড়ায় চার হাজার নয়শো সতেরো ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির ফিউচার বাজারেও দুই শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে।

Gold and silver slide as strong dollar sparks broad market sell-off | النهار

শক্তিশালী ডলারে চাপে সোনা

বিশ্ববাজারে ডলার সূচক প্রায় শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য সোনা কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার ওপর চাপ তৈরি হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় বাজারে ছুটির কারণে লেনদেন কম ছিল। চীন, হংকং, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চান্দ্র নববর্ষের ছুটি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্টস ডে উপলক্ষে বাজার বন্ধ ছিল। ফলে স্বাভাবিক চাহিদা না থাকায় দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

Gold slips on stronger dollar, US-China trade deal optimism - The Economic  Times

সুদের হার নিয়ে জল্পনা

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের জানুয়ারি বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বিনিয়োগকারীরা। বাজারে ধারণা, চলতি বছরে তিন দফা সুদ কমানো হতে পারে এবং প্রথম কাট হতে পারে জুনে। তবে ফেড শেষ পর্যন্ত কতটা আগ্রাসীভাবে সুদ কমাবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সুদ কমলে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এখনো স্পষ্ট সংকেত না থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

Dollar Slides to Four-Month Low as Gold Surges Past $5,000 in Market  Turmoil | The Swamp

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনা নজরে

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। পাশাপাশি ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যেও আলোচনার উদ্যোগ রয়েছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সোনার নিকটবর্তী প্রতিরোধ স্তর প্রায় পাঁচ হাজার একশো বিশ ডলার। দীর্ঘমেয়াদে বাজার আবারও পাঁচ হাজার ছয়শো ডলারের উচ্চতার দিকে অগ্রসর হতে পারে, তবে আপাতত ডলার ও সুদের দিকনির্দেশনাই নির্ধারণ করবে পরবর্তী গতি।

Gold edges down on stronger US dollar, easing tariff concerns - The  Business Times

অন্যান্য ধাতুতেও পতন

শুধু সোনা নয়, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। রুপার দাম দুই শতাংশ নেমে গেছে। প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামেও প্রায় দেড় থেকে দুই শতাংশ পর্যন্ত পতন দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে শক্তিশালী ডলার, কম লেনদেন এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার চাপে আপাতত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে সোনার বাজার। বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন ফেডের সিদ্ধান্ত ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে।