আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন নজর রেখেছেন চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রাথমিক হিসাবের দিকে। সুদের হার কমানোর সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে সেখান থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে বলেই বাজারে সতর্ক অবস্থান দেখা যাচ্ছে।
এশিয়ার বেশ কয়েকটি বাজার চন্দ্র নববর্ষের ছুটিতে বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টস ডে-র ছুটির প্রভাবে লেনদেন ছিল তুলনামূলকভাবে কম। পাতলা লেনদেনের মধ্যেই ডলার তার আগের দিনের অর্জিত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সুদের হার কমানো নিয়ে জল্পনা
অস্ট্রেলিয়ার একটি শীর্ষ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ মুদ্রা বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। বাজার বর্তমানে জুন মাসে সুদের হার কমানোর উচ্চ সম্ভাবনা ধরছে। তবে তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুনের পর জুলাইয়েও আরেক দফা সুদ কমানো হতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৬ সালজুড়ে ডলারের গতিপথ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যতিক্রমী অবস্থানই প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় কম বেড়েছে। ফলে চলতি বছরে নীতিগত শিথিলতার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে কিছুটা বাড়তি সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থবাজারে বছরের বাকি সময়ের জন্য উল্লেখযোগ্য হারে সুদ কমানোর হিসাব কষা হচ্ছে।

ইয়েনের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
জাপানের অর্থনীতি গত প্রান্তিকে খুব সামান্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল এই তথ্য প্রকাশের পর ইয়েনের সাম্প্রতিক উত্থান কিছুটা থমকে যায়। তবে মঙ্গলবার ইয়েন আগের দিনের ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য সুদবৃদ্ধির প্রত্যাশা ইয়েনকে দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা সহায়তা দিতে পারে।
তবুও গত অর্থবছর থেকে ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ডলার-ইয়েন লেনদেনে সতর্ক কৌশল নিচ্ছেন।
ইউরো, পাউন্ড ও অস্ট্রেলিয়ান ডলারের চিত্র
ডলারের শক্ত অবস্থানের বিপরীতে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড সামান্য দুর্বল হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা গেছে, নীতিনির্ধারকেরা তাৎক্ষণিক সুদবৃদ্ধিতে আগ্রহী নন। যদিও মূল্যস্ফীতি টানা তিন বছর লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে, তবুও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ওপর।
নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠক সামনে রেখে সেখানকার মুদ্রাও প্রায় স্থির অবস্থানে রয়েছে। বাজারের বড় অংশ মনে করছে, আপাতত সুদের হারে পরিবর্তন আসবে না।

ক্রিপ্টো বাজারে চাপ
বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারের এই সতর্ক অবস্থানের মধ্যে ক্রিপ্টো বাজারেও সামান্য চাপ দেখা গেছে। শীর্ষ ডিজিটাল মুদ্রাগুলোর দর কিছুটা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের আগে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগে অনীহাই এর মূল কারণ।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বৈশ্বিক মুদ্রাবাজার এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সংকেত এবং জিডিপি তথ্যের ওপর। সুদের হার কমানোর সময়সূচি স্পষ্ট হলেই ডলারের পরবর্তী দিকনির্দেশনা আরও পরিষ্কার হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















