কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিপুল বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে সংশয় তৈরি হতেই বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় ধস নেমেছে। কয়েক বছর ধরে লাগামহীন উত্থানের পর ২০২৬ সালের শুরুতেই বাজারমূল্যে শত শত বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে এই খাতের জায়ান্টরা। বিনিয়োগকারীরা এখন দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন নয়, দ্রুত মুনাফার স্পষ্ট চিত্র দেখতে চাইছেন।
বাজারে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার গল্পে শেয়ারদর বাড়ত। এখন বিনিয়োগকারীরা জানতে চাইছেন, এত বড় অঙ্কের খরচ থেকে বাস্তবে কত দ্রুত আয় আসবে। এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট না হওয়ায় মূল্যায়নে চাপ তৈরি হয়েছে।
মাইক্রোসফটের বড় ধাক্কা
বছরের শুরু থেকে মাইক্রোসফটের শেয়ার প্রায় ১৭ শতাংশ কমেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসায় ঝুঁকি, পাশাপাশি গুগলের নতুন জেমিনি মডেল এবং অ্যানথ্রপিকের ক্লড কোওয়ার্কার এজেন্টের বাড়তি প্রতিযোগিতা বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় ফেলেছে। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৬১৩ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২ দশমিক ৯৮ ট্রিলিয়ন ডলারে।
অ্যামাজনের মূল্যও কমেছে
অ্যামাজনের শেয়ারও এ বছর প্রায় ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৩৪৩ বিলিয়ন ডলার মুছে গেছে। বর্তমানে তাদের মূল্য প্রায় ২ দশমিক ১৩ ট্রিলিয়ন ডলার। এদিকে চলতি বছরে মূলধনী ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে আগেই জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বাজারে আরও চাপ তৈরি করেছে।

অ্যাপল, এনভিডিয়া ও অ্যালফাবেটের পতন
এনভিডিয়া, অ্যাপল এবং অ্যালফাবেটও বাজারমূল্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এনভিডিয়ার মূল্য কমেছে প্রায় ৮৯ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার, অ্যাপলের ২৫৬ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং অ্যালফাবেটের ৮৭ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। তবু তারা এখনও বিশ্বের শীর্ষ মূল্যায়িত কোম্পানির তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে কারা এগিয়ে
প্রযুক্তি খাতে ধসের বিপরীতে কিছু কোম্পানি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং ওয়ালমার্ট একই সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাজারমূল্য যোগ করেছে। বিনিয়োগকারীরা আপাতত স্থিতিশীল আয় ও স্পষ্ট ব্যবসায়িক মডেলের দিকে ঝুঁকছেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামীর দিকনির্দেশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ থামবে না, তবে এখন থেকে বাজার আরও সতর্ক থাকবে। বড় খরচের বদলে দ্রুত আয়, মুনাফা ও বাস্তব ফলাফলের দিকে নজর বাড়বে। প্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তারা কত দ্রুত এই বিনিয়োগকে টেকসই আয়ে রূপ দিতে পারে তার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















