পরিচিত মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া কেমন এড়ানো যায়? সম্প্রতি অনেক পাঠক আমাকে এই প্রশ্ন করেছেন, বিশেষ করে তখন যখন আমি প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকা অভিভাবকদের বিষয় নিয়ে লিখেছিলাম।
গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ
গবেষণা দেখায় যে, যেকোনো সময় প্রায় ১০% মানুষ তাদের পিতামাতা বা সন্তানদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন থাকে। পাশাপাশি, মানসিক চাপ ও রোগের বৃদ্ধি, এবং সামাজিক উত্তেজনার কারণে বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী এই সমস্যা ক্রমবর্ধমান।
বিচ্ছিন্নতা প্রতিরোধের উপায়
পরিবারিক ফাটল এড়াতে আমি জোশুয়া কোলম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মনোবিজ্ঞানী এবং কাউন্সিল অন কনটেম্পরারি ফ্যামিলিজের সিনিয়র ফেলো। এছাড়াও তিনি ‘Rules of Estrangement: Why Adult Children Cut Ties & How to Heal the Conflict’ বইয়ের লেখক। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও রয়েছে—তিনি নিজের এক প্রাপ্তবয়স্ক কন্যার সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা মেরামত করেছেন।
বিচ্ছিন্নতা শুরু কারা করে?
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানই এটির সূচনা করে। অভিভাবকদের জন্য সাধারণত কোনো সুবিধা নেই, ব্যতীত সন্তান খুব মানসিকভাবে সমস্যাযুক্ত বা অবহেলাপূর্ণ হলে। সন্তানদের জন্য বিচ্ছিন্নতা মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত পরিচয়—যেমন লিঙ্গ বা যৌনতা—প্রকাশের সুযোগ দেয়।
বিচ্ছিন্নতা কেন বেড়েছে?
রাজনৈতিক মতবিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্য ও থেরাপি সবই ভূমিকা রাখে। আধুনিক প্রজন্ম অনেক বেশি থেরাপিতে যায় এবং তাদের উৎসাহ দেওয়া হয় শৈশবের অভিজ্ঞতা ও মানসিক সমস্যার প্রভাব বোঝার জন্য। অনেক থেরাপিস্ট সন্তানদের বলেন যে, মানসিক সুস্থতার জন্য তাদের পিতামাতাকে দূরে রাখা দরকার। এই অবস্থাকে সমাজবিজ্ঞানী অ্যালিসন পুঘ “detachment brokers” হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সাম্প্রতিক সামাজিক পরিবর্তন এবং ব্যক্তিত্বমুখী মনোভাবও ভূমিকা রাখে। মানুষ নিজের সুখ ও বিকাশের পথে বাধা হতে পারে এমন সম্পর্ক—এমনকি পিতামাতার সম্পর্কও—দূর করতে প্ররোচিত।
পিতামাতার প্রতি অসহিষ্ণুতা বাড়ছে?
অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সাম্প্রতিক দশকে আমরা ক্ষতিকারক, অবহেলাপূর্ণ বা আঘাতকারী আচরণের সংজ্ঞা অনেক বেশি সংবেদনশীলভাবে দেখছি। আবেগগত নির্যাতন বা অবহেলার ধারণা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মানসিক রোগের হার বাড়ায় অভিভাবক ও সন্তানের সম্পর্কের সক্ষমতা প্রভাবিত হচ্ছে।
বিচ্ছিন্নতা কখন প্রয়োজনীয়?
যেখানে দীর্ঘমেয়াদী নির্যাতন বা অবহেলার ইতিহাস রয়েছে, সেখানে বিচ্ছিন্নতা প্রয়োজন হতে পারে। তবে গবেষণা দেখায় যে, ভালো পারিবারিক সম্পর্ক সুখী জীবনের মূল চাবিকাঠি। বিচ্ছিন্নতার প্রভাব কেবল দুই বা তিনজনকে নয়, পুরো পরিবারকে প্রভাবিত করে। নাতি-নাতনিদের দাদাদাদা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে, ভাইবোনরা পক্ষ নিয়ে যায়, আত্মীয়রাও দূরে সরে যায়।
কীভাবে পিতামাতা বিচ্ছিন্নতা এড়াতে পারেন?
প্রথমে বুঝতে হবে, প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সম্পর্ক রাখতে বাধ্য করা যায় না। আজকের সন্তানরা সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি কম অনুভব করে। তারা দেখবে সম্পর্ক তাদের ব্যক্তিগত সুখ ও বিকাশের সঙ্গে কতটা মানানসই। তাই, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মানজনক, সমানাধিকারভিত্তিক এবং সন্তানের মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী সংবেদনশীলভাবে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
সন্তান যদি সমালোচনা করে?
সন্তান যদি তাদের ক্ষতির কথা বলার চেষ্টা করে, তা আপনার প্রতি ঘৃণা বা অপমান দেখানোর জন্য নয়, বরং ঘনিষ্ঠতা বা সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা। অভিযোগের মূল ধরতে শোনা এবং আচরণ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি। কেউ ভাষার মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছে, কেউ Withdrawal-এর মাধ্যমে।
পিতামাতার কীভাবে প্রতিরক্ষামূলক না হয়ে সন্তানকে বোঝা যায়?
সকল অভিভাবকই শুনতে অস্বস্তি পান যে তারা সন্তানকে আঘাত করেছে। প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়তো কার্যকর হবে না। তবে অভিযোগের সত্য খুঁজে বের করা এবং তা মেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের কন্যার সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা থেকে আমি শিখেছি—প্রতিরক্ষা বা ব্যাখ্যা বন্ধ করতে হবে এবং নিজের অংশের জন্য দায়িত্ব নিতে হবে।
যদি অভিযোগের সঙ্গে একমত না হন?
অভিযোগ অনুযায়ী। সাধারণত বলা যায়: “আমি স্বীকার করি যে আমার অনেক অজ্ঞতা ছিল এবং আমি জানতাম না যে আপনি এত আহত বোধ করছেন। তবে আমি খুশি যে আপনি আমাকে জানিয়েছেন। আমি শোনা এবং বুঝতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে থেরাপি করব বা পারিবারিক থেরাপি করব। আমি আরও প্রতিক্রিয়া জানার জন্য আগ্রহী এবং শেখার চেষ্টা করব কিভাবে আরও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয়।” শুধুমাত্র “আমি তোমায় ভালোবাসি” বলা যথেষ্ট নয়। আঘাতের বিশেষ দিকগুলো মেরামতের জন্য প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান কীভাবে অভিযোগ জানাবে?
জানতে হবে, এটি পিতামাতার কাছে শুনতে কঠিন হবে এবং তারা প্রতিরক্ষামূলক হবেন। ভালোভাবে শুরু করুন—যা ভালো লাগে তা বলুন, তারপরে অভিযোগের কারণ জানান—শাস্তি বা অপমানের জন্য নয়, সম্পর্ক উন্নতির জন্য।
বিচ্ছিন্নতা এড়ানোর অন্য কৌশল
যদি বিচ্ছিন্নতার চিন্তা আসে, সেটা জানানো জরুরি। পিতামাতা হয়তো ভাবছেন সব ঠিক আছে। চিহ্নিত আচরণের পরিবর্তনের পরামর্শ দিন।
এভাবে, পারিবারিক সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ দিয়ে, শ্রদ্ধাশীল এবং সক্রিয় শোনার মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতা কমানো সম্ভব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















