মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাড়তে থাকা সহিংসতা ও নির্যাতনের জেরে গত ১৪ মাসে নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন দেড় লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধিত নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৭ জনে।
বুধবার প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ তথ্য জানিয়েছে। গত ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৩২ জন। অর্থাৎ এক মাসেই আরও প্রায় দুই হাজারের মতো নতুন আগমন ঘটেছে।

ক্যাম্পে মোট রোহিঙ্গা ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৫
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে চিহ্নিত মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৫ জন। তাদের মধ্যে ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৮ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করেছে ইউএনএইচসিআর।
নিবন্ধিতদের মধ্যে ১৯৯০ সালের পর বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা রয়েছেন ২৯ হাজার ৪৩৩ জন। আর ২০১৭ সালের পর সহিংসতার ঢেউয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা মানুষের সংখ্যা ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৫ জন।

রাখাইনে সহিংসতা, বাংলাদেশে নতুন ঢেউ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে রাখাইন রাজ্যে লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে নিরাপত্তার আশ্রয় খুঁজছেন রোহিঙ্গারা।
২০২৪ সালের শেষ দিকে ক্যাম্পগুলোতে নতুন আগতদের একটি বড় ঢেউ শনাক্ত করা হয়। তাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ চলমান রয়েছে।

নারী ও শিশু সংখ্যাগরিষ্ঠ
শরণার্থীদের মোট সংখ্যার ৭৮ শতাংশই নারী ও শিশু। এর মধ্যে ১২ শতাংশ এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যারা বিশেষ সুরক্ষা সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, একক অভিভাবক, গুরুতর অসুস্থ মানুষ, সঙ্গীহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক, ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক এবং আইনগত ও শারীরিক নিরাপত্তা প্রয়োজন এমন মানুষ।
রাখাইনে চলমান অস্থিরতা থামার কোনো লক্ষণ না থাকায় নতুন করে আগমন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ফলে ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















