যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে আমদানির ওপর অস্থায়ী শুল্ক হার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তার আগের শুল্ক কর্মসূচি বাতিল করার পরই এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ের পর দ্রুত সিদ্ধান্ত
আদালতের রায়ে বলা হয়, জরুরি অর্থনৈতিক আইনের অধীনে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। এর মাত্র একদিন পরই ট্রাম্প নতুন আইনি পথ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ অনুমোদিত ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণের কথা জানান।
নতুন এই ব্যবস্থা একটি আলাদা আইনের অধীনে আনা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ দেয়। তবে এই শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি চালু রাখতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ধারাটি ব্যবহার করেননি, ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে সন্দেহ
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জনমত শুল্ক বৃদ্ধির বিপক্ষে ঝুঁকছে বলে রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস এই পদক্ষেপ দীর্ঘায়িত নাও করতে পারে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, অনেক মার্কিন নাগরিক পণ্যের দাম বাড়ার জন্য এই শুল্ককেই দায়ী করছেন।
আরও শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা
সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানান, ১৫০ দিনের এই সময় তিনি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য আরও শুল্ক ব্যবস্থা তৈরির কাজ করবেন। প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত আমদানি কর বসানোর বিকল্প পথও বিবেচনা করছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ মন্তব্য করেছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস আশা প্রকাশ করেছেন, এতে জার্মান কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে শুল্কবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করবেন।

বাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকবে
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেছেন, আদালতের রায় সত্ত্বেও যেসব দেশের সঙ্গে উচ্চ শুল্কের চুক্তি হয়েছে, সেগুলো বহাল থাকবে। ফলে মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশের পণ্যে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের মতো দেশ, যারা এখনো নতুন চুক্তি করেনি, তারা সাময়িকভাবে কম শুল্ক সুবিধা পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে। সাম্প্রতিক জরিপে তার অর্থনৈতিক নীতিতে সমর্থন তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করছে, শুল্ক নীতির কারণেই জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















