১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে নাটকীয় জয়, নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড হরমুজে শক্তি প্রদর্শন নাকি কৌশলগত ভুল? ইরানের সবচেয়ে বড় চাপের অস্ত্র কি ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ একার নয়: প্রতিরক্ষা উদ্ভাবনে নতুন জোটের বাস্তবতা ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর মতামতঃ   প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা শুরু হয় ক্ষমতায় বসার পর বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫; ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে: রুমিন ফারহানা পুঁজির বিশাল স্রোতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির নতুন পরিকল্পনা: পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অপরাধের দায়ে শিশুদের বিচার: বয়স কমানোর প্রবণতা কি নতুন সংকট ডেকে আনছে?

ট্রাম্পকে চেক দিল সুপ্রিম কোর্ট, বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আবারও প্রমাণ করল—প্রয়োজনে তারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা টেনে দিতে প্রস্তুত। শুক্রবার দেওয়া এই রায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় নীতিগত উদ্যোগে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নেই

রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, ট্রাম্প যে আইনের ভিত্তিতে প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই আইনে এমন ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা রায়ে বলা হয়, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানেই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নয়।

৬-৩ ভোটের এই সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা আইনের সীমা অতিক্রম করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া দুই বিচারপতিও এই রায়ে তার বিপক্ষে অবস্থান নেন।

With tariffs ruling, Supreme Court reasserts its power to check Trump​ |  Bonikbarta

আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কে নতুন বার্তা

গত এক বছরে ট্রাম্পের নানা জরুরি আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট প্রায়ই তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ফলে আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে আইনজ্ঞ ও সমালোচকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এই রায়ের মাধ্যমে আদালত জানিয়ে দিল, প্রেসিডেন্টের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে তারা আইনি সুরক্ষা দেবে না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেখিয়েছে যে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, তার সীমা কঠোরভাবে নজরদারি করতে আদালত প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্টকে নতুন আইন পাসের জন্য কংগ্রেসের কাছেই যেতে হবে।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি রায় দেওয়া বিচারপতিদের তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে আদালত বিদেশি স্বার্থের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এমনকি নিজের মনোনীত বিচারপতিদের প্রতিও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

Supreme Court asserts its independence by issuing sharp rebuke to Trump -  The Globe and Mail

আগের মামলাগুলোতে ট্রাম্পের সাফল্য

দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে একাধিক জরুরি মামলায় জয় পেয়েছিল। এর ফলে তিনি ফেডারেল কর্মচারী বরখাস্ত, স্বাধীন সংস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, ট্রান্সজেন্ডার সেনা সদস্যদের নিষিদ্ধ করা এবং অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনার মতো পদক্ষেপ নিতে পেরেছিলেন।

২০২৪ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়েও আদালত ট্রাম্পকে ফৌজদারি বিচারের হাত থেকে ব্যাপক দায়মুক্তি দিয়েছিল, যা আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে আরও বিতর্ক তৈরি করেছিল।

সামনে আরও বড় আইনি লড়াই

বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক মামলার এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা। আগামী এপ্রিল মাসে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের নির্দেশনা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যা আবারও বড় আইনি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে নাটকীয় জয়, নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

ট্রাম্পকে চেক দিল সুপ্রিম কোর্ট, বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল

১২:১২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট আবারও প্রমাণ করল—প্রয়োজনে তারা প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা টেনে দিতে প্রস্তুত। শুক্রবার দেওয়া এই রায় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় নীতিগত উদ্যোগে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুল্ক আরোপে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নেই

রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, ট্রাম্প যে আইনের ভিত্তিতে প্রায় সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই আইনে এমন ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়নি। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের লেখা রায়ে বলা হয়, আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানেই শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নয়।

৬-৩ ভোটের এই সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা আইনের সীমা অতিক্রম করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া দুই বিচারপতিও এই রায়ে তার বিপক্ষে অবস্থান নেন।

With tariffs ruling, Supreme Court reasserts its power to check Trump​ |  Bonikbarta

আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কে নতুন বার্তা

গত এক বছরে ট্রাম্পের নানা জরুরি আবেদনে সুপ্রিম কোর্ট প্রায়ই তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। ফলে আদালতের স্বাধীনতা নিয়ে আইনজ্ঞ ও সমালোচকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে এই রায়ের মাধ্যমে আদালত জানিয়ে দিল, প্রেসিডেন্টের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে তারা আইনি সুরক্ষা দেবে না।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত দেখিয়েছে যে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে যে ক্ষমতা দিয়েছে, তার সীমা কঠোরভাবে নজরদারি করতে আদালত প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্টকে নতুন আইন পাসের জন্য কংগ্রেসের কাছেই যেতে হবে।

ট্রাম্পের তীব্র প্রতিক্রিয়া

রায়ের পর ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি রায় দেওয়া বিচারপতিদের তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে আদালত বিদেশি স্বার্থের প্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। এমনকি নিজের মনোনীত বিচারপতিদের প্রতিও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

Supreme Court asserts its independence by issuing sharp rebuke to Trump -  The Globe and Mail

আগের মামলাগুলোতে ট্রাম্পের সাফল্য

দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে একাধিক জরুরি মামলায় জয় পেয়েছিল। এর ফলে তিনি ফেডারেল কর্মচারী বরখাস্ত, স্বাধীন সংস্থার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, ট্রান্সজেন্ডার সেনা সদস্যদের নিষিদ্ধ করা এবং অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন আনার মতো পদক্ষেপ নিতে পেরেছিলেন।

২০২৪ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়েও আদালত ট্রাম্পকে ফৌজদারি বিচারের হাত থেকে ব্যাপক দায়মুক্তি দিয়েছিল, যা আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে আরও বিতর্ক তৈরি করেছিল।

সামনে আরও বড় আইনি লড়াই

বিশ্লেষকদের মতে, শুল্ক মামলার এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা। আগামী এপ্রিল মাসে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার ট্রাম্পের নির্দেশনা নিয়েও সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যা আবারও বড় আইনি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।