টাঙ্গাইলের সখীপুরে একুশের ভোরে শহীদ মিনারে একা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশ জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীর নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থক এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৌর শহরের উত্তরা মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আহ্বায়ক। তিনি সখীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শ. ম. আলী আজগরের ছেলে। একসময় তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও কয়েক বছর আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন, বর্তমানে তার কোনো দলীয় পদ নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলার মামলায় জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীর আসামি ছিলেন। কিছুদিন পলাতক থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান। পরে টাঙ্গাইলের নিম্ন আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ৩৮ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জাহিদ একা সখীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। তার এই শ্রদ্ধা নিবেদনের ভিডিও উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ব্যানারে ভাইরাল হয়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরদিন তার গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, পাশের বাসাইল থানার একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছেন কি না সে বিষয়ে তার জানা নেই। বাসাইল থানার পরিদর্শক আশরাফুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১২ নভেম্বর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাসাইল উপজেলার বাঐখোলা এলাকায় চলন্ত একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ১৩ নভেম্বর মামলা হয়েছে। ওই মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সখীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আহাম্মদ আলী বলেন, জাহিদ পৌর আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য নন। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি নিজ উদ্যোগে একা গিয়ে ফুল দিয়েছেন এবং ভিডিওতে সেটিই দেখা গেছে। তার বাইরে আর কিছু জানা নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















