ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি দুইদিনের সরকারি সফরে বেনিয়ামিন নেটানিয়াহু-এর আমন্ত্রণে ইসরায়েল যাচ্ছেন। এই সফর ভারতের ও ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য বহন করছে।
মূল প্রতিবেদন
মোদির সফরের প্রেক্ষাপট
মোদির ইসরায়েল সফরের আগে নেতানিয়াহু মোদিকে “ব্যক্তিগত বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে “বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে শক্তিশালী জোট” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দু’দেশই প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার প্রসারে একসাথে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।
ভারতের ফিলিস্তিন‑সম্পর্কিত অবস্থানও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সম্প্রতি ভারতসহ একশোরও বেশি দেশ রাষ্ট্রসংঘের যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিম তীরের সম্প্রসারণ কার্যকলাপকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছেন, এই বিবৃতি কোনো রূপরেখা বা আলোচনা‑ভিত্তিক নথি নয় এবং ভারতের অবস্থান ভারত‑আরব লীগ মন্ত্রিসভা যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য
মোদির এই সফর মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করবে। গত কয়েক মাসে নয়াদিল্লিতে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর ভারতে ফিলিস্তিন‑সহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব নতুন করে বোঝানো হয়েছে। এখন ইসরায়েলে সফর করে মোদি উভয় দিকেই ভারসাম্য বজায় রেখে কৌশলগত সহযোগিতাকে বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছেন বলে কূটনীতিকদের ধারণা।
সম্পর্ক ও কৌশলগত অগ্রাধিকার
ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক গত কয়েক বছর ধরে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি ও জলের ব্যবস্থাপনা‑সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা দুই দেশ অনুসন্ধান করছে। মোদির এই সফরের সময় এসব ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় কূটনীতি
ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। ফিলিস্তিন‑ইসরায়েল সংকটের প্রেক্ষাপটে ভারতে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগে এই সফর একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















