নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস কমিশন (CHTC) ও আন্তর্জাতিক আদিবাসী বিষয়ক গ্রুপ (IWGIA) বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। তারা চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস (CHT) মন্ত্রণালয়ে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এবং চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের মনোযোগ কামনা করেছে।
আদিবাসী নেতৃত্বে গুরুত্ব
নির্বাচিত আদিবাসী সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগকে স্বাগত জানানো হলেও, একই মন্ত্রণালয়ে অ-আদিবাসী একজন রাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। চুক্তির স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় পরিচালনার জন্য অবশ্যই আদিবাসীদের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিযুক্ত করা আবশ্যক। অ-আদিবাসী নিয়োগ চুক্তির উদ্দেশ্য ও আদিবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মনোভাবকে ক্ষুণ্ণ করে। চুক্তির পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন দীর্ঘদিন অপেক্ষিত, তাই এর বিধান মেনে চলা আদিবাসীদের আস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিধান এখনো বাস্তবায়িত নয়
চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও চট্টগ্রামকে আদিবাসী বসতি অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সামরিকীকরণের অবসান, হিল জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে ক্ষমতার অর্থবহ হস্তান্তর, চট্টগ্রাম ভূমি বিবাদ সমাধান কমিশনের কার্যকর কার্যক্রম এবং বাস্তুচ্যুত আদিবাসীদের পুনর্বাসন—এই মূল বিধানগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে অঞ্চলটি অস্থিতিশীল এবং শান্তি প্রক্রিয়া দুর্বল হয়েছে, পাশাপাশি আদিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসে মানবাধিকার পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে—হিংসা, এলোমেলো গ্রেফতার, ভূমি দখল এবং প্রাণহানি ঘটছে। এসব ঘটনার যথাযথ, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য, যাতে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়, ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
সরকারের প্রতি প্রস্তাবনা
নবনির্বাচিত সরকারের প্রতি নিম্নলিখিত প্রস্তাবনা প্রদান করা হয়েছে:
চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সম্প্রতি মন্ত্রীর নিয়োগ পুনঃসমীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতের নিয়োগও চুক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে নিশ্চিত করা।
চুক্তির পূর্ণ ও সত্যনিষ্ঠ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা এবং একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভূমি বিবাদ সমাধান কমিশনের কার্যকর কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং ভূমি বিবাদ দ্রুত সমাধান করা।
চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস নিয়ম ১৯০০ বজায় রাখার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।
বাউম সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা এবং অ-যোদ্ধা বাউম নারী ও শিশুদের জেল থেকে মুক্তির জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং পর্যাপ্ত ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করা।
আদিবাসী প্রতিনিধি এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সঙ্গে অর্থবহ ও স্থায়ী সংলাপ চালানো।
চুক্তির লিপি ও চেতনা সম্মান করে ন্যায়, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং স্থায়ী শান্তি রক্ষায় সরকারের সঙ্গে সমন্বিত ও গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস কমিশন প্রস্তুত। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংলাপ এবং কার্যকরী সংযোগ স্থাপনের জন্যও তারা সদা প্রস্তুত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















