০৭:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ইরান উত্তেজনা চরমে, ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার নির্দেশ; বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসে কর্মী প্রত্যাহার ভারত ‘আইইএ’‑তে পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের পথে, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া আলোচনার কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতির  বক্তব্যে অনেক কিছুই চেপে গেছেন: জামায়াত আমির মুকুল রায়ের মৃত্যু: বাংলার কৌশলী রাজনীতিকের শেষ অধ্যায় নগদকে ব্যক্তিখাতে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের নীতির ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদ উপলক্ষে নগদ সংকটে পড়া পোশাক রপ্তানিকারকদের সমর্থনের অঙ্গীকার করল ঢাবি শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ, পুলিশি হামলার প্রতিবাদ বাংলাদেশ আবারও নিশ্চিত করল সার্ক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ডিএসইতে পতনের মধ্যেও ডিএস৩০ বেড়ে গেছে; সিএসই সীমিত লাভে বন্ধ

ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা কাণ্ডে গোপনীয়তার বিরোধিতায় তীব্র প্রতিবাদ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের দ্বিতীয় চিকিৎসা নিয়ে সরকার গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তাঁর দল ও পরিবার। মঙ্গলবার ভোরে ইসলামাবাদের হাসপাতাল থেকে ইমরানকে রাত ঘনঘট এতে ভর্তি ও ছাড়া হওয়া নিয়ে পার্লামেন্টের আসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মাঠে আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে।

চিকিৎসা ও গোপনীয়তা বিতর্ক

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস‑এ (পিমস) ইমরানকে দ্বিতীয় ডোজ চোখের ইনজেকশন দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানা গেছে। এই চিকিৎসা ছিল তার ডান চোখের রেটিনাল ভেইন অবস্ট্রাকশন সমস্যার জন্য পরিকল্পিত। প্রথম চিকিৎসা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে করা হয়েছিল, তখন সরকার পাঁচ দিন পরই তা স্বীকার করেছিল। এবার রাতের অন্ধকারে চিকিৎসা নেওয়া ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ উঠেছে।

চিকিৎসার বিস্তারিত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা

পিমস‑এর চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইমরানকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড পরীক্ষা করার পর ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। কার্ডিয়াক ও ই সি জি পরীক্ষায় তিনি স্থিতিশীল ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি ঠিক অবস্থায় ছিলেন এবং পরামর্শসহ হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছেন। হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল এবং গভীর রাতে আনাগোনা করা হয়েছিল।

সরকার কী বলছে

পর্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী তরিক ফজল চৌধুরীর পোস্টে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত আইনগত ও মানবিক শর্ত পূরণ করে চিকিৎসা করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর উন্নতির লক্ষণ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং আগামী মাসে তৃতীয় ডোজ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগ অমূলক এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ ছিল।

পিটিআই ও পরিবারের কঠোর প্রতিক্রিয়া

প্রত্যুত্তরে তেহরিক‑ই‑তাহাফুজ‑ই‑আইন‑ই‑পাকিস্তান (পিটিআই) প্রশাসনের nighttime ব্যাপার গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হোক। দলটি বলেছে, গোপন চিকিৎসা কৌশল শুধু প্রশ্ন বাড়ায়। একটি ভিডিও শেয়ার করে তারা দাবি করেন যে একটি কনভয় পিমস থেকে ফিরে এসেছে, যদিও তা নিশ্চিত নয় যে এতে ইমরান ছিলেন কি না।

ইমরানের পরিবারের আক্রোশ

ইমরানের বোন আলীমা খানম অভিযোগ করেন পরিবারকে চিকিৎসার তদারকি সম্পর্কে আগেই জানানো হয়নি। তিনি বলেন, সরকারী চিকিৎসা ও রিপোর্টে পরিবারের বিশ্বাস নেই এবং তারা চান ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হোক। তিনি আরও বলেন, পিমস‑এ চিকিৎসা ক্ষেত্রটি যথেষ্ট সক্ষম নয় এবং সরকারের আচরণ অপরাধমূলক।

দলের দাবি ও আইনি চাপ

পিটিআই নেতা ও অন্যান্য প্রতিরোধ দলের প্রতিনিধিরা বলেন, রাতের এই চিকিৎসা ঘটা ঘটনা আইনগত ও মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করে। তারা বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পরিবার ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছাড়াই চিকিৎসা করানো উচিত নয়। শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রারকে আবেদন করে তারা দ্রুত ইমরানের মুকাদ্দমা শুনানির অনুরোধ করেন। দলের পক্ষ থেকে তারা সঠিক চিকিৎসা ও স্বচ্ছতা চাইছেন যাতে জনগণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা যায়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান উত্তেজনা চরমে, ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার নির্দেশ; বৈরুতে মার্কিন দূতাবাসে কর্মী প্রত্যাহার

ইমরান খানের চোখের চিকিৎসা কাণ্ডে গোপনীয়তার বিরোধিতায় তীব্র প্রতিবাদ

০৫:২৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চোখের দ্বিতীয় চিকিৎসা নিয়ে সরকার গোপনীয়তা অবলম্বন করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তাঁর দল ও পরিবার। মঙ্গলবার ভোরে ইসলামাবাদের হাসপাতাল থেকে ইমরানকে রাত ঘনঘট এতে ভর্তি ও ছাড়া হওয়া নিয়ে পার্লামেন্টের আসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মাঠে আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে।

চিকিৎসা ও গোপনীয়তা বিতর্ক

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস‑এ (পিমস) ইমরানকে দ্বিতীয় ডোজ চোখের ইনজেকশন দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানা গেছে। এই চিকিৎসা ছিল তার ডান চোখের রেটিনাল ভেইন অবস্ট্রাকশন সমস্যার জন্য পরিকল্পিত। প্রথম চিকিৎসা জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে করা হয়েছিল, তখন সরকার পাঁচ দিন পরই তা স্বীকার করেছিল। এবার রাতের অন্ধকারে চিকিৎসা নেওয়া ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র কটাক্ষ উঠেছে।

চিকিৎসার বিস্তারিত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা

পিমস‑এর চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইমরানকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বোর্ড পরীক্ষা করার পর ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। কার্ডিয়াক ও ই সি জি পরীক্ষায় তিনি স্থিতিশীল ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি ঠিক অবস্থায় ছিলেন এবং পরামর্শসহ হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছেন। হাসপাতালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল এবং গভীর রাতে আনাগোনা করা হয়েছিল।

সরকার কী বলছে

পর্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী তরিক ফজল চৌধুরীর পোস্টে বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত আইনগত ও মানবিক শর্ত পূরণ করে চিকিৎসা করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পর উন্নতির লক্ষণ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং আগামী মাসে তৃতীয় ডোজ নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন চিকিৎসা নিয়ে ওঠা অভিযোগ অমূলক এবং সরকারি ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ ছিল।

পিটিআই ও পরিবারের কঠোর প্রতিক্রিয়া

প্রত্যুত্তরে তেহরিক‑ই‑তাহাফুজ‑ই‑আইন‑ই‑পাকিস্তান (পিটিআই) প্রশাসনের nighttime ব্যাপার গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হোক। দলটি বলেছে, গোপন চিকিৎসা কৌশল শুধু প্রশ্ন বাড়ায়। একটি ভিডিও শেয়ার করে তারা দাবি করেন যে একটি কনভয় পিমস থেকে ফিরে এসেছে, যদিও তা নিশ্চিত নয় যে এতে ইমরান ছিলেন কি না।

ইমরানের পরিবারের আক্রোশ

ইমরানের বোন আলীমা খানম অভিযোগ করেন পরিবারকে চিকিৎসার তদারকি সম্পর্কে আগেই জানানো হয়নি। তিনি বলেন, সরকারী চিকিৎসা ও রিপোর্টে পরিবারের বিশ্বাস নেই এবং তারা চান ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হোক। তিনি আরও বলেন, পিমস‑এ চিকিৎসা ক্ষেত্রটি যথেষ্ট সক্ষম নয় এবং সরকারের আচরণ অপরাধমূলক।

দলের দাবি ও আইনি চাপ

পিটিআই নেতা ও অন্যান্য প্রতিরোধ দলের প্রতিনিধিরা বলেন, রাতের এই চিকিৎসা ঘটা ঘটনা আইনগত ও মানবিক অধিকার লঙ্ঘন করে। তারা বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পরিবার ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছাড়াই চিকিৎসা করানো উচিত নয়। শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রারকে আবেদন করে তারা দ্রুত ইমরানের মুকাদ্দমা শুনানির অনুরোধ করেন। দলের পক্ষ থেকে তারা সঠিক চিকিৎসা ও স্বচ্ছতা চাইছেন যাতে জনগণের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা যায়।