ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি এখন হাতের নাগালেই। কয়েক দিনের মধ্যেই জেনেভায় উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

জেনেভায় নতুন দফা বৈঠক
আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দূতদের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হওয়ার কথা। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তির কথা ইরানের
আব্বাস আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, পারস্পরিক উদ্বেগ ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়।
একই সুর শোনা গেছে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি-এর বক্তব্যে। তার দাবি, সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তেহরান। জেনেভার আলোচনায় তারা সততা ও সদিচ্ছা নিয়ে অংশ নেবে।

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে টানাপোড়েন
তবে মূল বিরোধ রয়ে গেছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি ত্যাগ করুক। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এই কর্মসূচি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে। যদিও ইরান বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার অংশ হিসেবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠানো, বাকিটা কম মাত্রায় রূপান্তর করা এবং আঞ্চলিক সমৃদ্ধকরণ ব্যবস্থায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এর বিনিময়ে ইরান চায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির অধিকার স্বীকৃতি এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

সামরিক হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বার্তা
উত্তেজনার আবহে ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, তাদের ওপর আক্রমণ হলে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা অনুযায়ী জবাব দেওয়া হবে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা বড় ধরনের ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।
এর আগে পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতি হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে মতবিরোধে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ফলে এবার জেনেভার বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















