পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতিতে প্রথমবারের মতো সরাসরি পাসপোর্ট সেবা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক ও কূটনৈতিক আলোচনার নতুন অধ্যায়। দখলকৃত অঞ্চলে এমন কনস্যুলার কার্যক্রমকে অনেকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
পশ্চিম তীরের বসতিতে প্রথমবার সেবা
জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানিয়েছে, বেথলেহেমের দক্ষিণে অবস্থিত এফরাত বসতিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে নিয়মিত পাসপোর্ট সেবা দেবেন। এটি প্রথমবার, যখন পশ্চিম তীরের কোনো ইসরায়েলি বসতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হচ্ছে।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিকের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের সেবা রামাল্লাহ, বেইতার ইলিত এবং ইসরায়েলের ভেতরের কয়েকটি শহরেও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনের বিতর্ক
বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সামরিক দখল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে পশ্চিম তীরের বসতিগুলোকে অবৈধ বলে মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির ডানপন্থী রাজনীতিকদের একটি বড় অংশ পশ্চিম তীর সংযুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখে, যার সঙ্গে গাজা ও পূর্ব জেরুজালেম যুক্ত থাকার দাবি তাদের দীর্ঘদিনের।
নেতানিয়াহু সরকারের নতুন পদক্ষেপ
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার এবং বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি অধিগ্রহণ সহজ করার পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তকে কার্যত সংযুক্তির পথে অগ্রসর হওয়া বলে আখ্যা দিয়েছে।
বর্তমানে পশ্চিম তীরের বড় অংশ ইসরায়েলের সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিছু এলাকায় সীমিত স্বশাসন চালায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।

হাজারো মার্কিন-ইসরায়েলি নাগরিক
পশ্চিম তীরে কয়েক দশক ধরে বসবাস করছেন বহু দ্বৈত মার্কিন-ইসরায়েলি নাগরিক। তাদের সংখ্যা কয়েক দশ হাজার বলে ধারণা করা হয়। এফরাত বসতিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মার্কিন অভিবাসীর বসবাস রয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।
বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং প্রায় ত্রিশ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। অধিকাংশ বসতি ছোট শহরের মতো গড়ে উঠেছে, যা নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সেনা পাহারায় সুরক্ষিত।
এই নতুন কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















