পাকিস্তানে আবারও রক্তাক্ত হামলা। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও পাঞ্জাবে পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য। একদিকে টহলরত পুলিশ গাড়িতে সশস্ত্র হামলা, অন্যদিকে চেকপোস্টে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ—এই জোড়া আঘাতে দেশজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানকে ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

কোহাটে পুলিশ টহলে রক্তাক্ত হামলা
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট শহরে টহলরত একটি পুলিশ গাড়িকে লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায় সশস্ত্র জঙ্গিরা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই পাঁচ পুলিশ সদস্য নিহত হন। হামলাকারীরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আহত অবস্থায় থাকা দুই বেসামরিক নাগরিকও হাসপাতালে মারা যান। নিহতদের মরদেহ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় জানাজা অনুষ্ঠিত হলে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ভাক্কার জেলায় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ
একই দিনে পাঞ্জাব প্রদেশের ভাক্কার জেলায় আন্তঃপ্রাদেশিক দাজাল চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলা হয়। জেলা পুলিশ প্রধান জানান, বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন অন্তত পাঁচজন, যাদের মধ্যে দুইজন পোলিও কর্মী রয়েছেন। চিকিৎসাধীনদের অবস্থা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

দায় স্বীকার ও কঠোর বার্তা
এই দুই হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান। পাঞ্জাব পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পুলিশ “ইস্পাতের দেয়াল” হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাষ্ট্র যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে বলেও তিনি সতর্কবার্তা দেন।
আফগানিস্তান ইস্যুতে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে ধারাবাহিক আত্মঘাতী হামলার পর ইসলামাবাদ অভিযোগ তোলে, জঙ্গিরা আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় পাচ্ছে এবং সেখান থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে হামলার পরিকল্পনা করছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালায়। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। আফগান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সাম্প্রতিক হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং এটি তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
বিশ্লেষণ: বাড়ছে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
২০০৭ সাল থেকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলো বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিস্থিতি আবারও অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উত্তেজনা—এই দ্বিমুখী চাপে পাকিস্তান সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















