যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে চিঠি বা ডাক পৌঁছে না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ বা ইউএস পোস্টাল সার্ভিসের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকরা মামলা করতে পারবেন না। বিভক্ত রায়ে পাঁচ বনাম চার ভোটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ঘোষিত এই রায়ে আদালত টেক্সাসের এক বাড়িওয়ালা লেবেনে কোনানের আবেদন খারিজ করে দেয়। কোনানের অভিযোগ ছিল, দুই বছর ধরে তার ডাক ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে বর্ণবিদ্বেষমূলক মনোভাব কাজ করেছে।
বিচারপতিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মত
পাঁচজন রক্ষণশীল বিচারপতির পক্ষে মতামত লিখে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস বলেন, যে ফেডারেল আইন সাধারণত হারিয়ে যাওয়া, অনুপস্থিত বা বিতরণ না হওয়া চিঠিপত্রের জন্য ডাক বিভাগকে মামলা থেকে সুরক্ষা দেয়, সেই সুরক্ষার মধ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে ডাক না দেওয়ার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, ডাক না পৌঁছানো যদি পরিকল্পিতভাবেও ঘটে, তবুও এই আইনের আওতায় সংস্থাটি সুরক্ষিত থাকবে।

বিচারপতিদের ভিন্নমত
ভিন্নমতে বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র বলেন, আইনটি ব্যাপক সুরক্ষা দিলেও তা এমন পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করে না, যেখানে ডাক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিদ্বেষপূর্ণ বা কু-উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার মতে, যদি ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলক কারণে ডাক আটকে রাখা হয়, তবে সেই ক্ষেত্রে মামলা করার সুযোগ থাকা উচিত। এই ভিন্নমতে বিচারপতি নীল গোরসাচও তিনজন উদারপন্থী বিচারপতির সঙ্গে একমত হন।
সরকারের অবস্থান
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান প্রশাসন আদালতকে সতর্ক করে জানিয়েছিল, কোনানের পক্ষে রায় গেলে অর্থসংকটে থাকা ডাক বিভাগের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরের ঢল নামতে পারত। এতে সংস্থার কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
মামলার পটভূমি
লেবেনে কোনান একজন বাড়িওয়ালা, পাশাপাশি তিনি রিয়েল এস্টেট ও বীমা এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেন। তার অভিযোগ, টেক্সাসের ইউলেস শহরের একটি পোস্ট অফিসের দুই কর্মী তার এবং তার ভাড়াটিয়াদের ডাক ইচ্ছাকৃতভাবে বিতরণ করেননি। তিনি দাবি করেন, তিনি কৃষ্ণাঙ্গ এবং একাধিক সম্পত্তির মালিক হওয়ায় ওই কর্মীরা তাকে অপছন্দ করতেন এবং সেই কারণেই এই আচরণ করেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন কোনান জানতে পারেন, তার একটি ভাড়াবাড়ির ডাকবাক্সের চাবি তার অজান্তেই পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে তিনি ভাড়াটিয়াদের ডাক সংগ্রহ ও বিতরণ করতে পারছিলেন না। স্থানীয় পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণ না করা পর্যন্ত তিনি নতুন চাবি বা নিয়মিত ডাক পাবেন না।
তিনি মালিকানার প্রমাণ দেওয়ার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। এমনকি ইউএসপিএসের মহাপরিদর্শক ডাক বিতরণের নির্দেশ দেওয়ার পরও জটিলতা চলতে থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ চিঠি না পাওয়ার অভিযোগ
মামলায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা কিছু চিঠিকে ‘বিতরণযোগ্য নয়’ বা ‘প্রেরকের কাছে ফেরত’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর ফলে কোনান ও তার ভাড়াটিয়ারা বিল, ওষুধ এবং গাড়ির মালিকানার কাগজপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি সময়মতো পাননি। কোনানের দাবি, পরিস্থিতির কারণে কিছু ভাড়াটিয়া বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার ভাড়া আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আইনি লড়াই ও চূড়ান্ত রায়
ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে বহু অভিযোগ দায়েরের পর কোনান ১৯৪৬ সালের ফেডারেল টর্ট ক্লেইমস অ্যাক্টের আওতায় মামলা করেন। এই আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। তবে মামলাটি মূলত ডাক বিভাগের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনি সুরক্ষার পরিসর নিয়েই কেন্দ্রীভূত ছিল।
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ে স্পষ্ট হয়েছে, ডাক বিতরণ না হওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে ডাক বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং ইচ্ছাকৃত বিতরণ না করার ঘটনাও সেই সুরক্ষার আওতার বাইরে নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















