যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিয়েছেন মঙ্গলবার রাতে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর গত এক বছরে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে তিনি নিজের অবস্থান জোরালোভাবে ব্যাখ্যা করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই ভাষণটি ছিল এ ধরনের বক্তৃতার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ। বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ‘সোনালি যুগ’ ফিরে আসার দাবি করেন। তাঁর কথায়, “আমেরিকা আবার সম্মান পাচ্ছে, হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি।”
চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন
ভাষণে আশাবাদী সুর থাকলেও বাস্তবতা ছিল জটিল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখে রয়েছে। এই বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর নীতির পক্ষে সাফাই দেন এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সফল হিসেবে উপস্থাপন করেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘ ভাষণজুড়ে তিনি চীনের নাম সরাসরি একবারও উল্লেখ করেননি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই অনুপস্থিতি বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে।
দেশীয় নীতিতে জোর
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের বড় একটি অংশ উৎসর্গ করেন অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য তুলে ধরতে। তিনি দাবি করেন, এক বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি একটি ‘সংকটে নিমজ্জিত দেশ’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, যেখানে অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় ছিল।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের পদক্ষেপের ফলে সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে এবং দেশ আবারও প্রবৃদ্ধির পথে ফিরছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।

রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ভাষণকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিজের সমর্থক ঘাঁটি দৃঢ় করার পাশাপাশি বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে চেয়েছেন। “সোনালি যুগ” ধারণাটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ২০২৬ সালের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ছিল আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতিতে ভরপুর। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈদেশিক টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন—এই তিনটি বড় প্রশ্নের মুখে তাঁর ঘোষিত ‘সোনালি যুগ’ কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















