০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের চুয়াডাঙ্গায় বাড়ির গ্রিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ: ‘সোনালি যুগ’-এর ঘোষণা, কিন্তু চীনের নামও উচ্চারণ নয়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিয়েছেন মঙ্গলবার রাতে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর গত এক বছরে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে তিনি নিজের অবস্থান জোরালোভাবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই ভাষণটি ছিল এ ধরনের বক্তৃতার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ। বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ‘সোনালি যুগ’ ফিরে আসার দাবি করেন। তাঁর কথায়, “আমেরিকা আবার সম্মান পাচ্ছে, হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি।”

চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ভাষণে আশাবাদী সুর থাকলেও বাস্তবতা ছিল জটিল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখে রয়েছে। এই বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর নীতির পক্ষে সাফাই দেন এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সফল হিসেবে উপস্থাপন করেন।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ৯০ দিনের শুল্ক শান্তি চুক্তি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বস্তির  বার্তা

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘ ভাষণজুড়ে তিনি চীনের নাম সরাসরি একবারও উল্লেখ করেননি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই অনুপস্থিতি বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে।

দেশীয় নীতিতে জোর

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের বড় একটি অংশ উৎসর্গ করেন অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য তুলে ধরতে। তিনি দাবি করেন, এক বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি একটি ‘সংকটে নিমজ্জিত দেশ’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, যেখানে অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় ছিল।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের পদক্ষেপের ফলে সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে এবং দেশ আবারও প্রবৃদ্ধির পথে ফিরছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।

এক বছরে ট্রাম্পের সম্পদ দ্বিগুণ হলো যেভাবে

রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ভাষণকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিজের সমর্থক ঘাঁটি দৃঢ় করার পাশাপাশি বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে চেয়েছেন। “সোনালি যুগ” ধারণাটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ২০২৬ সালের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ছিল আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতিতে ভরপুর। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈদেশিক টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন—এই তিনটি বড় প্রশ্নের মুখে তাঁর ঘোষিত ‘সোনালি যুগ’ কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ: ‘সোনালি যুগ’-এর ঘোষণা, কিন্তু চীনের নামও উচ্চারণ নয়

০৩:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিয়েছেন মঙ্গলবার রাতে। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর গত এক বছরে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে তিনি নিজের অবস্থান জোরালোভাবে ব্যাখ্যা করেন।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই ভাষণটি ছিল এ ধরনের বক্তৃতার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ। বক্তব্যে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ‘সোনালি যুগ’ ফিরে আসার দাবি করেন। তাঁর কথায়, “আমেরিকা আবার সম্মান পাচ্ছে, হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি।”

চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

ভাষণে আশাবাদী সুর থাকলেও বাস্তবতা ছিল জটিল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের মুখে রয়েছে। এই বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই ট্রাম্প তাঁর নীতির পক্ষে সাফাই দেন এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সফল হিসেবে উপস্থাপন করেন।

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের ৯০ দিনের শুল্ক শান্তি চুক্তি, বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্বস্তির  বার্তা

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘ ভাষণজুড়ে তিনি চীনের নাম সরাসরি একবারও উল্লেখ করেননি। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই অনুপস্থিতি বিশ্লেষকদের নজর কাড়ে।

দেশীয় নীতিতে জোর

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের বড় একটি অংশ উৎসর্গ করেন অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য তুলে ধরতে। তিনি দাবি করেন, এক বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি একটি ‘সংকটে নিমজ্জিত দেশ’ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন, যেখানে অর্থনীতি স্থবির অবস্থায় ছিল।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনের পদক্ষেপের ফলে সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে এবং দেশ আবারও প্রবৃদ্ধির পথে ফিরছে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় গৌরব পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন।

এক বছরে ট্রাম্পের সম্পদ দ্বিগুণ হলো যেভাবে

রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এই ভাষণকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। ভাষণের মাধ্যমে তিনি নিজের সমর্থক ঘাঁটি দৃঢ় করার পাশাপাশি বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে চেয়েছেন। “সোনালি যুগ” ধারণাটি কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ২০২৬ সালের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ছিল আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতিতে ভরপুর। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা, বৈদেশিক টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন—এই তিনটি বড় প্রশ্নের মুখে তাঁর ঘোষিত ‘সোনালি যুগ’ কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।