মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরার মৃত্যু দেশটিকে নতুন এক অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এল মেনচো নামে পরিচিত এই শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, তার গড়ে তোলা জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল আদৌ টিকে থাকতে পারবে কি না, নাকি ভেতরেই শুরু হবে রক্তক্ষয়ী ক্ষমতার লড়াই।
রবিবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এল মেনচো নিহত হন। এর পরপরই মেক্সিকোর তৃতীয় বৃহত্তম শহর গুয়াদালাহারা সহ একাধিক শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। দোকান, ব্যাংক ও যানবাহনে আগুন, মহাসড়ক অবরোধ—সব মিলিয়ে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়।
কার্টেলের ভবিষ্যৎ কোন পথে
বিশ্বজুড়ে কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচারের জন্য কুখ্যাত জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল শুধু মাদকেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তারা অবৈধ সোনা খনন, অভিবাসী পাচার এমনকি কৃষিপণ্য ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিল। আন্তর্জাতিক জোট গড়ে আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছিল এই সংগঠন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্টেলটি টিকে থাকবে কি না তা নির্ভর করছে কত দ্রুত তারা নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে পারে তার ওপর। নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে সংগঠনটি ভেঙে গিয়ে ছোট ছোট সহিংস গোষ্ঠীতে রূপ নিতে পারে। এতে দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরসূরি নিয়ে জটিলতা
এল মেনচোর কয়েকজন ভাই এবং তার এক ছেলে আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে। তার স্ত্রী রোসালিনদা গনসালেস ভ্যালেন্সিয়া অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও পুরুষতান্ত্রিক অপরাধ জগতের বাস্তবতায় তার নেতৃত্বে আসা কঠিন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

ধারণা করা হচ্ছে, কার্টেলের চার শীর্ষ কমান্ডারের মধ্যে কেউ একজন নেতৃত্ব নিতে পারেন। তবে ঐকমত্য না হলে রক্তক্ষয়ী উত্তরাধিকার যুদ্ধ শুরু হতে পারে।
সরকারের দ্বিমুখী লড়াই
মেক্সিকো সরকার ইতিমধ্যেই সিনালোয়া কার্টেলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একসঙ্গে দুই শক্তিশালী কার্টেলের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা বেড়েছে। আগের প্রশাসনের সামাজিক কর্মসূচি নির্ভর নীতি অপরাধ কমাতে ব্যর্থ হয়েছিল বলে সমালোচনা রয়েছে। বর্তমান সরকার সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শীর্ষ নেতাকে হত্যা করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। মধ্য পর্যায়ের নেতৃত্ব ও আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে না দিলে কার্টেল আবারও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।
বিশ্বে মাদক চাহিদা বাড়ছে
গত কয়েক দশকে অসংখ্য মাদক সম্রাট গ্রেপ্তার বা নিহত হলেও বিশ্বজুড়ে মাদক সেবন কমেনি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বে কোকেন ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ চক্র ভাঙা গেলেও চাহিদা রয়ে গেছে আগের মতোই।
এল মেনচোর মৃত্যু তাই একদিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হলেও অন্যদিকে তা নতুন সহিংসতার সূচনা হতে পারে—এমন আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে মেক্সিকো জুড়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















