ব্রিটিশ রাজপরিবারে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের গ্রেপ্তার। একসময় আদরের রাজপুত্র হিসেবে পরিচিত এই সদস্য এখন বিতর্ক আর আইনি জটিলতার কেন্দ্রে। ভাই হিসেবে নয়, একজন রাজা হিসেবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন রাজা চার্লস তৃতীয়। স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—রাজতন্ত্র রক্ষাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর গ্রেপ্তার এবং রাজা চার্লসের কঠোর অবস্থান—এই ঘটনাই এখন ব্রিটেনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।
গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ এবং রাজকীয় বিবৃতি
সাম্প্রতিক অভিযোগের ভিত্তিতে অ্যান্ড্রুকে পুলিশ দশ ঘণ্টার বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে। যদিও এখনো তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়নি, তবু ঘটনাটি রাজতন্ত্রকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। গ্রেপ্তারের দুই দিন পর রাজা চার্লস এক ব্যতিক্রমী বিবৃতি দেন। সাধারণত প্রাসাদের বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিক ভাষা ব্যবহার করা হলেও এবার তিনি সরাসরি নিজের কণ্ঠে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রানি এলিজাবেথের সুরক্ষা বনাম চার্লসের দূরত্ব
অ্যান্ড্রুর অতীত বিতর্ক নতুন নয়। বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক, আর্থিক সমঝোতা এবং রাজকীয় দায়িত্ব থেকে অপসারণ—সব মিলিয়ে তাঁর ভাবমূর্তি বহু আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবু জীবদ্দশায় রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয় ছেলেকে বারবার আড়াল করেছেন। পারিবারিক সূত্র বলছে, তিনি রাজতন্ত্র ও পুত্রের সুরক্ষাকে আলাদা করে দেখতেন না।
কিন্তু রাজা চার্লস ভিন্ন পথ নিয়েছেন। রাজকীয় দায়িত্ব, সামরিক উপাধি এবং অর্থনৈতিক সুবিধা একে একে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মায়ের শেষকৃত্যে সামরিক পোশাক পরার অনুমতিও পাননি অ্যান্ড্রু। অভিষেক অনুষ্ঠানে তাঁকে তৃতীয় সারিতে বসানো হয়। সর্বশেষ তাঁর উপাধিও সরিয়ে দেওয়া হয়। এখন তিনি কেবল অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর।
দুই ভাইয়ের দূরত্বের ইতিহাস
শৈশব থেকেই দুই ভাইয়ের স্বভাব ছিল ভিন্ন। চার্লস ছিলেন সংবেদনশীল ও অন্তর্মুখী। অন্যদিকে অ্যান্ড্রু ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও বহির্মুখী। পরিবারের ভেতরেও তাঁদের সম্পর্ক কখনো খুব ঘনিষ্ঠ ছিল না। রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক আয়োজনে একসঙ্গে দেখা গেলেও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার নজির কম।
নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করে অ্যান্ড্রু একসময় যুদ্ধনায়কের মর্যাদা পেয়েছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পান। তবে সেই দায়িত্ব পালনের সময় নানা বিতর্ক জন্ম নেয়। এখন তদন্তকারীরা তাঁর সেই সময়কার কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখছেন।
রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার রাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার উত্তরাধিকার সূত্রের নিয়ম পরিবর্তনের বিষয় বিবেচনা করছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এতে সিংহাসনের অষ্টম স্থানে থাকা অ্যান্ড্রুর অবস্থান বদলাতে পারে।
রাজা চার্লসের বয়স এখন সাতাত্তর। এমন এক সময়ে তিনি সিংহাসনে, যখন পরিবার ও প্রতিষ্ঠান—দুই দিকই চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট তাঁর শাসনামলের অন্যতম নির্ধারক অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















