০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আগামীকাল আজকের চেয়ে ভালো নাও হতে পারে: ইতিহাসের সতর্কবার্তা চীনের চিপ শিল্পে বড় ধাক্কা, মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে থমকে উচ্চক্ষমতার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন দুবাইয়ে ৬০ মিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে পাকিস্তান মেডিক্যাল সেন্টারের বিশাল সম্প্রসারণ, যুক্ত হচ্ছে ১৫ নতুন বিশেষায়িত বিভাগ ওষুধে একচেটিয়া ভাঙতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, সরবরাহ জোরদারে নতুন নিয়ম জারি আমিরাতে অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার ঘিরে রাজপরিবারে ঝড়, ভাইকে আর রক্ষা নয়—কঠোর বার্তা রাজা চার্লসের ইরানের দোরগোড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক সমাবেশ, বহু সপ্তাহের আকাশ অভিযান কি আসন্ন? ইরানের সঙ্গে সন্দেহজনক লেনদেন, অনুসন্ধান করেই শাস্তি পেলেন ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা নিঃশব্দ গ্যাস লিক, প্রাণঘাতী বিস্ফোরণ: তিন দিনে চার জেলায় মৃত্যু-আতঙ্ক কারাগার থেকে হাসপাতালে ইমরান খান, চোখের চিকিৎসায় দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন, স্থিতিশীল শারীরিক অবস্থা কীভাবে জামায়াতকে হারানো হয়েছে, দেশবাসী সবই জানে: রফিকুল ইসলাম খান

দুবাইয়ে ৬০ মিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে পাকিস্তান মেডিক্যাল সেন্টারের বিশাল সম্প্রসারণ, যুক্ত হচ্ছে ১৫ নতুন বিশেষায়িত বিভাগ

দুবাইয়ে কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুলতে যাচ্ছে পাকিস্তান মেডিক্যাল সেন্টার। ৬০ মিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রটির সেবা সক্ষমতা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে। যুক্ত হবে অন্তত ১৫টি নতুন বিশেষায়িত বিভাগ, গড়ে উঠবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন চিকিৎসা অবকাঠামো।

বার্ষিক দাতাদের ইফতার অনুষ্ঠানে প্রায় চার শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন দুবাই পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. ফয়সাল ইকরাম। তিনি জানান, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে যাত্রা শুরুর পর থেকে কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিয়েছে। ১২৬টি দেশের রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৩৭টি বিশেষায়িত বিভাগে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

দাতব্য ক্লিনিক থেকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান

শুরুতে একটি দাতব্য ক্লিনিক হিসেবে যাত্রা করলেও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাকিস্তান মেডিক্যাল সেন্টার এখন একটি টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহমর্মিতাভিত্তিক ও সহজপ্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রটি ২৮ মিলিয়ন দিরহামের বেশি ভর্তুকিযুক্ত চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। মোট রোগীর প্রায় ৭৫ শতাংশই কল্যাণভিত্তিক সহায়তা পেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয় যে কমিউনিটির সমর্থনেই এই উদ্যোগ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত সেবা

নতুন ভবনে থাকবে ৮৯ হাজার বর্গফুট নির্মিত এলাকা। বেজমেন্ট, ভূতল ও ওপরের দুটি তলায় বিস্তৃত এই অবকাঠামো আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রসারণের ফলে আধুনিক রেডিওলজি ইউনিট গড়ে তোলা হবে, যেখানে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ম্যামোগ্রাম ও ডেক্সা সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি চালু হবে পূর্ণাঙ্গ ডায়ালাইসিস ইউনিট, যার মধ্যে শিশুদের ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপন সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মানসিক স্বাস্থ্য, নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, পালমোনোলজি ও জেরিয়াট্রিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সেবা সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি গড়ে উঠবে ফিজিওথেরাপি সেন্টার অব এক্সেলেন্স। বিদ্যমান ভবনের সঙ্গে প্রথম তলার সংযোগ স্থাপন করে বহির্বিভাগ ও পরীক্ষাগার সেবাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব লক্ষ্য

এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, কমিউনিটি সংগঠনের উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম নেট-জিরো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি গড়ে তোলা। অর্থাৎ ভবনটি এমনভাবে নির্মিত হবে যাতে কার্বন নিঃসরণ কার্যত শূন্যের কোঠায় রাখা যায়।

‘একটি ইটের মালিকানা’ উদ্যোগ

৬০ মিলিয়ন দিরহামের এই প্রকল্পে অর্থায়ন আসবে কমিউনিটি ও করপোরেট সমর্থন থেকে। অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘একটি ইটের মালিকানা’ নামে বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এক হাজার দিরহাম অনুদানের মাধ্যমে যে কেউ একটি ইটের প্রতীকী মালিক হতে পারবেন। লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৬০ হাজার ইটের সমপরিমাণ অনুদান সংগ্রহের।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গত পাঁচ বছরে পরিচালন ব্যয়ে কখনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। দাতাদের আস্থা ও অব্যাহত সমর্থনই কেন্দ্রটির সবচেয়ে বড় শক্তি।

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম ও জনস্বাস্থ্য উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে। শ্রমিক ক্যাম্পে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটির আরও বিস্তৃত অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামীকাল আজকের চেয়ে ভালো নাও হতে পারে: ইতিহাসের সতর্কবার্তা

দুবাইয়ে ৬০ মিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে পাকিস্তান মেডিক্যাল সেন্টারের বিশাল সম্প্রসারণ, যুক্ত হচ্ছে ১৫ নতুন বিশেষায়িত বিভাগ

১১:৩০:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুবাইয়ে কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত খুলতে যাচ্ছে পাকিস্তান মেডিক্যাল সেন্টার। ৬০ মিলিয়ন দিরহাম ব্যয়ে বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কেন্দ্রটির সেবা সক্ষমতা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে। যুক্ত হবে অন্তত ১৫টি নতুন বিশেষায়িত বিভাগ, গড়ে উঠবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন চিকিৎসা অবকাঠামো।

বার্ষিক দাতাদের ইফতার অনুষ্ঠানে প্রায় চার শতাধিক অতিথির উপস্থিতিতে সম্প্রসারণ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন দুবাই পাকিস্তান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. ফয়সাল ইকরাম। তিনি জানান, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে যাত্রা শুরুর পর থেকে কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিয়েছে। ১২৬টি দেশের রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ৩৭টি বিশেষায়িত বিভাগে সেবা প্রদান করা হয়েছে।

দাতব্য ক্লিনিক থেকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান

শুরুতে একটি দাতব্য ক্লিনিক হিসেবে যাত্রা করলেও সম্প্রসারণের মাধ্যমে পাকিস্তান মেডিক্যাল সেন্টার এখন একটি টেকসই ও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহমর্মিতাভিত্তিক ও সহজপ্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

গত পাঁচ বছরে কেন্দ্রটি ২৮ মিলিয়ন দিরহামের বেশি ভর্তুকিযুক্ত চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। মোট রোগীর প্রায় ৭৫ শতাংশই কল্যাণভিত্তিক সহায়তা পেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয় যে কমিউনিটির সমর্থনেই এই উদ্যোগ শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত সেবা

নতুন ভবনে থাকবে ৮৯ হাজার বর্গফুট নির্মিত এলাকা। বেজমেন্ট, ভূতল ও ওপরের দুটি তলায় বিস্তৃত এই অবকাঠামো আগামী দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সম্প্রসারণের ফলে আধুনিক রেডিওলজি ইউনিট গড়ে তোলা হবে, যেখানে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ম্যামোগ্রাম ও ডেক্সা সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি চালু হবে পূর্ণাঙ্গ ডায়ালাইসিস ইউনিট, যার মধ্যে শিশুদের ডায়ালাইসিস ও প্রতিস্থাপন সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মানসিক স্বাস্থ্য, নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, পালমোনোলজি ও জেরিয়াট্রিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সেবা সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি গড়ে উঠবে ফিজিওথেরাপি সেন্টার অব এক্সেলেন্স। বিদ্যমান ভবনের সঙ্গে প্রথম তলার সংযোগ স্থাপন করে বহির্বিভাগ ও পরীক্ষাগার সেবাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে।

টেকসই ও পরিবেশবান্ধব লক্ষ্য

এই প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, কমিউনিটি সংগঠনের উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথম নেট-জিরো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি গড়ে তোলা। অর্থাৎ ভবনটি এমনভাবে নির্মিত হবে যাতে কার্বন নিঃসরণ কার্যত শূন্যের কোঠায় রাখা যায়।

‘একটি ইটের মালিকানা’ উদ্যোগ

৬০ মিলিয়ন দিরহামের এই প্রকল্পে অর্থায়ন আসবে কমিউনিটি ও করপোরেট সমর্থন থেকে। অংশগ্রহণ বাড়াতে ‘একটি ইটের মালিকানা’ নামে বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এক হাজার দিরহাম অনুদানের মাধ্যমে যে কেউ একটি ইটের প্রতীকী মালিক হতে পারবেন। লক্ষ্য রাখা হয়েছে ৬০ হাজার ইটের সমপরিমাণ অনুদান সংগ্রহের।

কর্তৃপক্ষ জানায়, গত পাঁচ বছরে পরিচালন ব্যয়ে কখনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। দাতাদের আস্থা ও অব্যাহত সমর্থনই কেন্দ্রটির সবচেয়ে বড় শক্তি।

চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি একাডেমিক কার্যক্রম ও জনস্বাস্থ্য উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে। শ্রমিক ক্যাম্পে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে কমিউনিটির আরও বিস্তৃত অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।