০২:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
মিশরজুড়ে বিশ্বকাপ নায়কদের বীরের সংবর্ধনা, ইতিহাস গড়া দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস আপত্তির মুখে ভারতের নাগরিকত্ব যাচাই অভিযান, দেশে ফিরল সোনালি বিবির পরিবার চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক উন্মোচন, কর্মক্ষেত্রের এআইয়ের দৌড়ে নতুন অধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি ধ্বংসস্তূপের খার্তুমে ফিরেছে ২০ লাখ মানুষ, সংকট বিদ্যুৎ-পানি ও কর্মসংস্থানে গাজায় বিশ্বকাপ দেখানোর আয়োজন করা ত্রাণকর্মী বিমান হামলায় নিহত স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিহত ১২ ও নিখোঁজ ২৩ ইউক্রেনকে ৭০ বিলিয়ন ইউরো সহায়তার অঙ্গীকার ন্যাটোর, ক্ষুব্ধ রাশিয়া সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর মিলল যুবকের মরদেহ, হত্যার আলামত বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষের জীবন-জীবিকা

রাষ্ট্রগঠনে দৃষ্টিভঙ্গিই শক্তি, পরীক্ষানিরীক্ষা নয়—সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়ন মডেলের ভিতরকার শক্তির গল্প

রাষ্ট্র গঠন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, আবার এটি পরীক্ষামূলক প্রয়াসও নয়। সুস্পষ্ট কৌশল, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়িয়েই একটি জাতি টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সেই উদাহরণ, যেখানে মরুভূমির বুকে শুরু হওয়া রাষ্ট্র আজ বৈশ্বিক উন্নয়ন মডেল হিসেবে আলোচিত।

দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উন্নয়নের যাত্রা

বিশ্বে বহু দেশ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের পথে যাত্রা করেছে, কিন্তু কেবল অল্প কয়েকটি দেশই উন্নয়নের স্পষ্ট দর্শন ও কৌশল নির্ধারণ করে সামনে এগোতে পেরেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত শুরু থেকেই রাষ্ট্রগঠনকে মানব উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মূল্যবোধ, মানবিক নীতি এবং জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে গড়ে তোলা এই কাঠামো সময়ের পরিবর্তনের ঝড়েও স্থিতিশীল থেকেছে।

মজবুত ভিত ও দূরদর্শী নেতৃত্ব

প্রয়াত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের হাত ধরে যে নেতৃত্বের ধারা শুরু হয়েছিল, তা কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়, একটি আলাদা রাষ্ট্রদর্শন গড়ে তোলে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়েছেন। মরুভূমি থেকে মহাকাশ অভিযানে পৌঁছে যাওয়া এই রাষ্ট্র আজ কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, জ্ঞানভিত্তিক খাত ও বিনিয়োগে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

পরীক্ষানিরীক্ষার ঝুঁকি

রাষ্ট্রগঠনে পরীক্ষামূলক পদক্ষেপের ফল দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে। ইতিহাস দেখায়, প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ কেবল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে পড়েছে। উন্নয়ন যদি সুসংগঠিত কৌশলের বদলে বিচ্ছিন্ন ধারণার ওপর দাঁড়ায়, তবে তা টেকসই হয় না।

বৈশ্বিক রূপান্তরের উদাহরণ

বিশ্বে অর্থনৈতিক রূপান্তরের শক্ত উদাহরণ রয়েছে। চীন ঐতিহ্যগত শিল্পনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করে তারা বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে। একইভাবে ভারত গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো প্রমাণ করে, ভবিষ্যৎ জয়ের মূল চাবিকাঠি হলো জ্ঞান ও গবেষণা।

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির পথে আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনে তেল খাতের অবদান বিশ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে দেশটি আর কেবল তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত নয়; বরং এটি এখন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতামূলক কেন্দ্র।

ব্যতিক্রমী উন্নয়ন মডেল

আজ সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রমাণ করেছে যে উন্নয়ন কোনো প্রচারণা নয়, বরং দীর্ঘ পরিকল্পনা, সুশাসন এবং জনগণের আস্থার ফল। সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা মিলেই এই সাফল্যের ভিত গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রগঠনে পরীক্ষানিরীক্ষা নয়, বরং সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গিই টেকসই অগ্রগতির একমাত্র পথ—এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে আমিরাতের অভিজ্ঞতায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিশরজুড়ে বিশ্বকাপ নায়কদের বীরের সংবর্ধনা, ইতিহাস গড়া দলকে ঘিরে উচ্ছ্বাস

রাষ্ট্রগঠনে দৃষ্টিভঙ্গিই শক্তি, পরীক্ষানিরীক্ষা নয়—সংযুক্ত আরব আমিরাতের উন্নয়ন মডেলের ভিতরকার শক্তির গল্প

০৭:২১:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাষ্ট্র গঠন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, আবার এটি পরীক্ষামূলক প্রয়াসও নয়। সুস্পষ্ট কৌশল, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দাঁড়িয়েই একটি জাতি টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সেই উদাহরণ, যেখানে মরুভূমির বুকে শুরু হওয়া রাষ্ট্র আজ বৈশ্বিক উন্নয়ন মডেল হিসেবে আলোচিত।

দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উন্নয়নের যাত্রা

বিশ্বে বহু দেশ রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের পথে যাত্রা করেছে, কিন্তু কেবল অল্প কয়েকটি দেশই উন্নয়নের স্পষ্ট দর্শন ও কৌশল নির্ধারণ করে সামনে এগোতে পেরেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত শুরু থেকেই রাষ্ট্রগঠনকে মানব উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মূল্যবোধ, মানবিক নীতি এবং জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে গড়ে তোলা এই কাঠামো সময়ের পরিবর্তনের ঝড়েও স্থিতিশীল থেকেছে।

মজবুত ভিত ও দূরদর্শী নেতৃত্ব

প্রয়াত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের হাত ধরে যে নেতৃত্বের ধারা শুরু হয়েছিল, তা কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়, একটি আলাদা রাষ্ট্রদর্শন গড়ে তোলে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়েছেন। মরুভূমি থেকে মহাকাশ অভিযানে পৌঁছে যাওয়া এই রাষ্ট্র আজ কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, জ্ঞানভিত্তিক খাত ও বিনিয়োগে বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

পরীক্ষানিরীক্ষার ঝুঁকি

রাষ্ট্রগঠনে পরীক্ষামূলক পদক্ষেপের ফল দীর্ঘমেয়াদে ভয়াবহ হতে পারে। ইতিহাস দেখায়, প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অনেক দেশ কেবল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে পড়েছে। উন্নয়ন যদি সুসংগঠিত কৌশলের বদলে বিচ্ছিন্ন ধারণার ওপর দাঁড়ায়, তবে তা টেকসই হয় না।

বৈশ্বিক রূপান্তরের উদাহরণ

বিশ্বে অর্থনৈতিক রূপান্তরের শক্ত উদাহরণ রয়েছে। চীন ঐতিহ্যগত শিল্পনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করে তারা বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে। একইভাবে ভারত গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণার মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো প্রমাণ করে, ভবিষ্যৎ জয়ের মূল চাবিকাঠি হলো জ্ঞান ও গবেষণা।

জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির পথে আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিবেশগত স্থায়িত্ব, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উন্নয়নের মূল স্তম্ভ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনে তেল খাতের অবদান বিশ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে দেশটি আর কেবল তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত নয়; বরং এটি এখন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতামূলক কেন্দ্র।

ব্যতিক্রমী উন্নয়ন মডেল

আজ সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রমাণ করেছে যে উন্নয়ন কোনো প্রচারণা নয়, বরং দীর্ঘ পরিকল্পনা, সুশাসন এবং জনগণের আস্থার ফল। সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা মিলেই এই সাফল্যের ভিত গড়ে তুলেছে। রাষ্ট্রগঠনে পরীক্ষানিরীক্ষা নয়, বরং সুসংহত দৃষ্টিভঙ্গিই টেকসই অগ্রগতির একমাত্র পথ—এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে আমিরাতের অভিজ্ঞতায়।