ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হঠাৎ করেই চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। নতুন উপগ্রহ চিত্র ও উড়োজাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইরানকে ঘিরে সামরিক ঘাঁটিগুলোতে দ্রুত শক্তি বাড়ানো হচ্ছে। এতে কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি আকাশ অভিযানের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
দুই দফা পারমাণবিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। ১৭ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এরপর থেকেই ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে দেড় শতাধিক সামরিক বিমান সরিয়ে নেওয়ার খবর সামনে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দশকে এ অঞ্চলে এটিই অন্যতম বড় শক্তি সমাবেশ।
দীর্ঘমেয়াদি আকাশ অভিযানের ইঙ্গিত
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলছেন, যে ধরনের যুদ্ধবিমান, বোমারু ও সহায়ক সামরিক সম্পদ মোতায়েন করা হয়েছে, তা কেবল সীমিত পাল্টা হামলার জন্য নয়। বরং কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহব্যাপী সুসংগঠিত আকাশ অভিযানের প্রস্তুতির সঙ্গে এই সমাবেশ বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের আগে যে ধরনের সামরিক ঘনত্ব দেখা গিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
ওয়াশিংটনের অবস্থানও স্পষ্ট। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প খোলা আছে—এমন বার্তা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও যেকোনো চুক্তির জন্য সময় প্রয়োজন বলে জানাচ্ছে।

দুই বিমানবাহী রণতরী, কৌশলগত বার্তা
সমুদ্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতিও বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড ফোর্ড, যা গ্রিসের সুদা উপসাগরে নোঙর করেছে। একই সময়ে আব্রাহাম লিংকনও অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। সাধারণত একই এলাকায় দুটি বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রস্তুতি অথবা শক্তিশালী প্রতিরোধ বার্তার ইঙ্গিত দেয়।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ২০০৩ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় সামরিক সমাবেশ আর দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি কেবল চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি বাস্তব সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি।
ইসরায়েলের প্রস্তুতি ও আঞ্চলিক উৎকণ্ঠা
ইসরায়েলও সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তেল আবিব অতিরিক্ত ফ্রন্ট খোলার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রেখেছে। এতে পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সমাবেশ এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। সামনে কি কূটনৈতিক সমাধান, নাকি দীর্ঘ আকাশ অভিযান—এ প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















