০১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রাউজানে বাজারে বসা অবস্থায় গুলিতে নিহত মজিব ভাণ্ডারী, আতঙ্কে পুরো এলাকা বরিশাল আদালত কাণ্ডে কড়া বার্তা, অবমাননার রুল জারি ও মামলা: গ্রেপ্তার শুরু মোদি–নেতানিয়াহু বৈঠকে কৌশলগত সমীকরণ, ইসরায়েল সফরে নতুন গতি ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কে সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ রমজানে যাকাত পৌঁছে দিচ্ছে বিকাশ, ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদানের সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকে নেতৃত্ব বদলের পর শীর্ষ কর্মকর্তাদের রদবদল ঈদে ঘরমুখো মানুষের স্বস্তি, ৩ মার্চ থেকে অগ্রিম ট্রেন টিকিট বিক্রি শুরু ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক ঋণ রেকর্ড ৩৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার বাফটা আসরে বর্ণবাদী শব্দ সম্প্রচার, তড়িঘড়ি তদন্তে বিবিসি ল্যারি সামার্সের হার্ভার্ড ছাড়ার ঘোষণা, এপস্টেইন বিতর্কে নতুন মোড়

ইরানকে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন, উপসাগরে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে। ঠিক এমন সময়ে এই অগ্রগতি ঘটছে, যখন ইরানের উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়ছে।

Iran to buy supersonic anti-ship missiles from China: report

চুক্তির শেষ ধাপে তেহরান-বেইজিং আলোচনা

জানা গেছে, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা প্রায় দুই বছর ধরে চলছিল। তবে গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই আলোচনা দ্রুত গতি পায়। গত গ্রীষ্মে আলোচনার চূড়ান্ত ধাপে ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। তাঁদের মধ্যে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসউদ ওরায়ের নামও উঠে এসেছে।

যদিও এখনো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবু চুক্তি প্রায় সম্পন্ন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে এবং এর জন্য কত অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ পায়নি।

China Close to Deal Selling Supersonic Anti-Ship Missiles to Iran - The  China-Global South Project

সুপারসনিক ক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উড়ে শত্রুপক্ষের জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অস্ত্র ইরানের হামলা সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

একজন সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ইরান যদি সত্যিই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারে, তবে তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।

Iran China Missile Deal Could Change Regional Dynamics

ওয়াশিংটনের সতর্ক বার্তা

এই চুক্তির সম্ভাবনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌসমাবেশ ঘটিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান অচলাবস্থায় হয় কূটনৈতিক সমাধান হবে, নয়তো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সমঝোতা না হলে আগের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং প্রয়োজনে সেগুলোর ব্যবহার করার এটিই উপযুক্ত সময়।

Iran nears deal to purchase supersonic anti-ship missiles from China

আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, চীন-ইরান ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা কৌশলেও তার প্রভাব পড়বে। ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে বাজারে বসা অবস্থায় গুলিতে নিহত মজিব ভাণ্ডারী, আতঙ্কে পুরো এলাকা

ইরানকে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন, উপসাগরে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

১১:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। ইরান চীনের কাছ থেকে জাহাজবিধ্বংসী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে। ঠিক এমন সময়ে এই অগ্রগতি ঘটছে, যখন ইরানের উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্র বিশাল নৌবহর মোতায়েন করেছে এবং সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়ছে।

Iran to buy supersonic anti-ship missiles from China: report

চুক্তির শেষ ধাপে তেহরান-বেইজিং আলোচনা

জানা গেছে, চীনে তৈরি সিএম-৩০২ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার আলোচনা প্রায় দুই বছর ধরে চলছিল। তবে গত জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই আলোচনা দ্রুত গতি পায়। গত গ্রীষ্মে আলোচনার চূড়ান্ত ধাপে ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। তাঁদের মধ্যে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাসউদ ওরায়ের নামও উঠে এসেছে।

যদিও এখনো ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি, তবু চুক্তি প্রায় সম্পন্ন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে এবং এর জন্য কত অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ পায়নি।

China Close to Deal Selling Supersonic Anti-Ship Missiles to Iran - The  China-Global South Project

সুপারসনিক ক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

সিএম-৩০২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি উড়ে শত্রুপক্ষের জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অস্ত্র ইরানের হামলা সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

একজন সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ইরান যদি সত্যিই সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারে, তবে তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনবে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অত্যন্ত কঠিন।

Iran China Missile Deal Could Change Regional Dynamics

ওয়াশিংটনের সতর্ক বার্তা

এই চুক্তির সম্ভাবনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপকূলের কাছে বড় নৌসমাবেশ ঘটিয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান অচলাবস্থায় হয় কূটনৈতিক সমাধান হবে, নয়তো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সমঝোতা না হলে আগের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা চুক্তি রয়েছে এবং প্রয়োজনে সেগুলোর ব্যবহার করার এটিই উপযুক্ত সময়।

Iran nears deal to purchase supersonic anti-ship missiles from China

আঞ্চলিক উত্তেজনার নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, চীন-ইরান ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা কৌশলেও তার প্রভাব পড়বে। ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।