বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই গোপনে কাশ প্যাটেল ও সুজি ওয়াইলসের ফোনের কল রেকর্ড সংগ্রহ করেছিল—এমন বিস্ফোরক দাবি সামনে আসতেই ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ঝড়। বর্তমানে এফবিআই পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে থাকা কাশ প্যাটেল নিজেই এ তথ্য প্রকাশ করে বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনভাবে পরিচালিত হয়েছিল এবং নথিগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যাতে পরে সেগুলো সহজে খুঁজে পাওয়া না যায়।

মার-এ-লাগো নথি মামলার সময়কার নজরদারি
কাশ প্যাটেলের দাবি, ২০২২ ও ২০২৩ সালে যখন তিনি এবং সুজি ওয়াইলস ব্যক্তিগত নাগরিক ছিলেন, তখনই তাদের ফোন রেকর্ড জব্দ করা হয়। সে সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার-এ-লাগোতে গোপন নথি সংরক্ষণ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। ওই তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ।
প্যাটেল জানান, তদন্তকারীরা যে তথাকথিত ‘টোল রেকর্ড’ সংগ্রহ করেছিলেন, তাতে কার সঙ্গে কখন কথা হয়েছে তার সময় ও নম্বরের তথ্য ছিল, তবে কথোপকথনের বিষয়বস্তু ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে আদালতের অনুমতি ছাড়াই সমন জারি করে এ ধরনের ফোন রেকর্ড সংগ্রহ আইনসঙ্গত।
‘প্রোহিবিটেড’ চিহ্নে আড়াল করা নথি
সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগ হলো, এসব রেকর্ড এফবিআইয়ের কম্পিউটার ব্যবস্থায় ‘প্রোহিবিটেড’ নামে বিশেষ শ্রেণিতে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। প্যাটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে নতুন নেতৃত্বের পক্ষে নথি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এ ধরনের শ্রেণিবিন্যাসের সুযোগ বাতিল করেছেন বলেও জানান।
এ ঘটনার জেরে অন্তত দশজন বর্তমান এফবিআই কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে সংস্থার ভেতরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও আসেনি।
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান
প্যাটেল এ ঘটনাকে নির্বাচিত নয় এমন কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার অভিযোগ, দুর্বল অজুহাতে তার ও সুজি ওয়াইলসের ফোন রেকর্ড গোপনে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
অন্যদিকে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতারা অতীতে জ্যাক স্মিথের তদন্তকে আইনসম্মত বলেই সমর্থন করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা ছিল তদন্তকারীদের দায়িত্ব।
২০২৩ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মার-এ-লাগো নথি মামলায় ফৌজদারি অভিযোগ আনা হলেও পরে এক ফেডারেল বিচারক তা খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে আপিলও প্রত্যাহার করা হয়। ট্রাম্প শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রেকর্ডিং বিতর্ক ও নীরবতা
২০২৩ সালে সুজি ওয়াইলস ও তার আইনজীবীর একটি ফোনালাপ এফবিআই রেকর্ড করেছিল বলেও জানা গেছে। আইনজীবী রেকর্ডের বিষয়ে অবগত থাকলেও ওয়াইলস তা জানতেন না বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ড কিংবা সাবেক এফবিআই পরিচালক ক্রিস্টোফার রে—কেউই এ অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেননি। জ্যাক স্মিথও সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেননি।
![]()
নতুন প্রশ্নের মুখে তদন্ত পদ্ধতি
এই ঘটনা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক তদন্তে নজরদারির সীমা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফোন রেকর্ড সংগ্রহ আইনসঙ্গত হলেও তা গোপনে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্টদের অবগত না করা কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















