০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নোয়াখালীর হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসুদের গাড়িবহরে হামলা, নাহিদের তীব্র নিন্দা ও তদন্তের দাবি রাউজানে বাজারে বসা অবস্থায় গুলিতে নিহত মজিব ভাণ্ডারী, আতঙ্কে পুরো এলাকা বরিশাল আদালত কাণ্ডে কড়া বার্তা, অবমাননার রুল জারি ও মামলা: গ্রেপ্তার শুরু মোদি–নেতানিয়াহু বৈঠকে কৌশলগত সমীকরণ, ইসরায়েল সফরে নতুন গতি ভারত–ইসরায়েল সম্পর্কে সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ রমজানে যাকাত পৌঁছে দিচ্ছে বিকাশ, ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদানের সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকে নেতৃত্ব বদলের পর শীর্ষ কর্মকর্তাদের রদবদল ঈদে ঘরমুখো মানুষের স্বস্তি, ৩ মার্চ থেকে অগ্রিম ট্রেন টিকিট বিক্রি শুরু ঋণের পাহাড়ে বিশ্ব অর্থনীতি, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক ঋণ রেকর্ড ৩৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার বাফটা আসরে বর্ণবাদী শব্দ সম্প্রচার, তড়িঘড়ি তদন্তে বিবিসি

ল্যারি সামার্সের হার্ভার্ড ছাড়ার ঘোষণা, এপস্টেইন বিতর্কে নতুন মোড়

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ল্যারি সামার্স অবশেষে অধ্যাপনার পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো। চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেবেন বলে জানিয়েছেন।

Former U.S. treasury secretary Larry Summers to resign from Harvard amid  Epstein fallout - The Globe and Mail

এপস্টেইন বিতর্কে চাপের মুখে সিদ্ধান্ত

বুধবার এক বিবৃতিতে সামার্স বলেন, হার্ভার্ডে তাঁর অধ্যাপনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তদারকি কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সম্প্রতি যে নথিপত্র প্রকাশ করেছেন, তাতে সামার্স ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মধ্যে চলমান ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য উঠে আসে। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়তে থাকে।

তবে সামার্সের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কাজের প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। তবুও বিষয়টি ঘিরে একাডেমিক অঙ্গনে চাপ তৈরি হয়।

Larry Summers: Ex-Treasury Secretary Larry Summers quits Harvard over  Epstein probe

হার্ভার্ডের পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক পদত্যাগ

গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে যাদের নাম রয়েছে তাদের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। এর পরপরই সামার্স তাঁর পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং হার্ভার্ডের ব্যবসা ও সরকারবিষয়ক কেন্দ্রের সহ-পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

হার্ভার্ডের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে সামার্সের নেতৃত্বের পদ থেকে পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের শেষ পর্যন্ত তিনি ছুটিতে থাকবেন, এরপর একাডেমিক দায়িত্ব থেকেও অবসর নেবেন।

Larry Summers will resign from teaching at Harvard during review of Epstein  ties, university says - Colorado Springs Gazette

ওপেনএআই বোর্ড থেকেও সরে দাঁড়ান

এপস্টেইন বিতর্কের জেরে সামার্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর পরিচালনা পর্ষদ থেকেও পদত্যাগ করেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটি তৈরি করেছে।

তখন সামার্স প্রকাশ্যে বলেন, নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি গভীরভাবে লজ্জিত এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো পুনর্গঠনের জন্য জনসম্মুখের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

Larry Summers leaves OpenAI board, Harvard instructor role as scrutiny over  Epstein emails intensifies | CNN Business

শিক্ষাঙ্গনে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ প্রশ্ন

হার্ভার্ডে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সামার্সের এই বিদায় উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধের প্রমাণ নেই, তবু এপস্টেইন-সম্পর্কিত যোগাযোগ তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পর্যালোচনার ফলাফল এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনায় নীতিগত অবস্থান কী হবে, তা এখন নজরে রাখছে একাডেমিক মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসুদের গাড়িবহরে হামলা, নাহিদের তীব্র নিন্দা ও তদন্তের দাবি

ল্যারি সামার্সের হার্ভার্ড ছাড়ার ঘোষণা, এপস্টেইন বিতর্কে নতুন মোড়

১২:২২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ল্যারি সামার্স অবশেষে অধ্যাপনার পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো। চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেবেন বলে জানিয়েছেন।

Former U.S. treasury secretary Larry Summers to resign from Harvard amid  Epstein fallout - The Globe and Mail

এপস্টেইন বিতর্কে চাপের মুখে সিদ্ধান্ত

বুধবার এক বিবৃতিতে সামার্স বলেন, হার্ভার্ডে তাঁর অধ্যাপনার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তদারকি কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সম্প্রতি যে নথিপত্র প্রকাশ করেছেন, তাতে সামার্স ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মধ্যে চলমান ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য উঠে আসে। এরপর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সমালোচনা বাড়তে থাকে।

তবে সামার্সের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কাজের প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। তবুও বিষয়টি ঘিরে একাডেমিক অঙ্গনে চাপ তৈরি হয়।

Larry Summers: Ex-Treasury Secretary Larry Summers quits Harvard over  Epstein probe

হার্ভার্ডের পর্যালোচনা ও প্রশাসনিক পদত্যাগ

গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে যাদের নাম রয়েছে তাদের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। এর পরপরই সামার্স তাঁর পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত করেন এবং হার্ভার্ডের ব্যবসা ও সরকারবিষয়ক কেন্দ্রের সহ-পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

হার্ভার্ডের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে সামার্সের নেতৃত্বের পদ থেকে পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের শেষ পর্যন্ত তিনি ছুটিতে থাকবেন, এরপর একাডেমিক দায়িত্ব থেকেও অবসর নেবেন।

Larry Summers will resign from teaching at Harvard during review of Epstein  ties, university says - Colorado Springs Gazette

ওপেনএআই বোর্ড থেকেও সরে দাঁড়ান

এপস্টেইন বিতর্কের জেরে সামার্স প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর পরিচালনা পর্ষদ থেকেও পদত্যাগ করেন। ওই প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটি তৈরি করেছে।

তখন সামার্স প্রকাশ্যে বলেন, নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি গভীরভাবে লজ্জিত এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো পুনর্গঠনের জন্য জনসম্মুখের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

Larry Summers leaves OpenAI board, Harvard instructor role as scrutiny over  Epstein emails intensifies | CNN Business

শিক্ষাঙ্গনে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ প্রশ্ন

হার্ভার্ডে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সামার্সের এই বিদায় উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধের প্রমাণ নেই, তবু এপস্টেইন-সম্পর্কিত যোগাযোগ তাঁকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পর্যালোচনার ফলাফল এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনায় নীতিগত অবস্থান কী হবে, তা এখন নজরে রাখছে একাডেমিক মহল।