পবিত্র রমজান মাসে সামর্থ্যবান মানুষ যখন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে যাকাত ও সদকার পরিমাণ বাড়ান, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় সঠিক জায়গায় অর্থ পৌঁছানো। সময়ের অভাব, দূরত্ব ও আস্থার সংকট অনেক সময় ভালো উদ্যোগকেও থমকে দেয়। এই বাস্তবতায় ডিজিটাল আর্থিক সেবার মাধ্যমে যাকাত ও অনুদান দেওয়া এখন হয়ে উঠেছে আরও সহজ ও স্বচ্ছ।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের ৫০টির বেশি দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানে সরাসরি যাকাত পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের নানা প্রান্তে থাকা হাজারো দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে। রমজানজুড়ে যাকাত আদায় ও বিতরণে এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে অনেকের আস্থা অর্জন করেছে।

সারা বছরজুড়ে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান পাঠানোর সুবিধাও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন, অঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম, মজার স্কুল, অভিজাত্রিক ফাউন্ডেশন, জাগো ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, আইসিডিডিআরবি, ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, ডোনেশন ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্রথম আলো ট্রাস্টসহ আরও অনেক সংগঠন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মার্চেন্ট হিসাবের মাধ্যমেও অনুদান দেওয়া যায়।
যাকাত বা অনুদান পাঠাতে হলে অ্যাপের অনুদান বিভাগে গিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হয়। এরপর নাম, ইমেইল ও অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ করে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। কেউ চাইলে নিজের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগও রয়েছে। লেনদেন শেষ হলে দাতাকে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা দেওয়া হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্যও দেখা যায়। প্রয়োজনে দাতারা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থের ব্যবহার সম্পর্কেও জানতে পারেন।
ডিজিটাল যাকাত ব্যবস্থার এই উদ্যোগ রমজানে দানের সংস্কৃতিকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলছে। ফলে দেশের নানা প্রান্তে থাকা অসহায় মানুষের কাছে সহায়তার হাত দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















