ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা অ্যাস্টন মার্টিন কঠিন আর্থিক চাপের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন আমদানি শুল্কের প্রভাব ও চীনে দুর্বল চাহিদার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট কর্মীর প্রায় ২০ শতাংশ ছাঁটাই করবে বলে জানিয়েছে। প্রায় তিন হাজার কর্মীর এই প্রতিষ্ঠানে এ সিদ্ধান্ত বড় ধরনের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কোম্পানি বলছে, এই ছাঁটাই কার্যকর হলে বছরে প্রায় ৪০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে। এর বেশিরভাগ সাশ্রয় চলতি বছর থেকেই ধরা পড়বে। গত বছর ঘোষিত ৫ শতাংশ কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তও এই হিসাবের অংশ।

মার্কিন শুল্ক ও চীনা বাজারে মন্দা
অ্যাস্টন মার্টিন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক তাদের জন্য অত্যন্ত বিঘ্নসৃষ্টিকারী হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ির বাজার চীনে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। এই দুই ধাক্কা কোম্পানির বিক্রি ও নগদ প্রবাহে বড় প্রভাব ফেলেছে।

ঋণের চাপ ও নগদ সংকট
জেমস বন্ডের ব্যবহৃত গাড়ির ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরেই নগদ অর্থসংকট ও উচ্চ ঋণের চাপে রয়েছে। বর্তমানে তাদের ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন পাউন্ড। যদিও কানাডীয় ধনকুবের ও চেয়ারম্যান লরেন্স স্ট্রলের পুঁজি সহায়তা এবং বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানি কিছুটা ভরসা পেয়েছে, তবুও আর্থিক ভারসাম্য পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারেনি।
২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ২৫৯ দশমিক ২ মিলিয়ন পাউন্ড পরিচালন ক্ষতির মুখ দেখেছে।
ব্যয় কমাতে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিনিয়োগে দেরি
কোম্পানি তাদের পাঁচ বছরের মূলধনী ব্যয় পরিকল্পনাও কমিয়েছে। আগে যেখানে ব্যয়ের লক্ষ্য ছিল ২ বিলিয়ন পাউন্ড, এখন তা কমিয়ে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে এই ব্যয় সংকোচন করা হচ্ছে।
তবে নতুন ভ্যালহালা হাইব্রিড সুপারকারের প্রায় ৫০০টি ডেলিভারির মাধ্যমে আয় বাড়ার আশা করছে অ্যাস্টন মার্টিন। তাদের লক্ষ্য মোট মুনাফার হার ৩০ শতাংশের উচ্চ পর্যায়ে নেওয়া এবং সুদ ও করের আগে সমন্বিত আয়কে প্রায় সমতা পর্যায়ে আনা।

২০২৬-এ ঘুরে দাঁড়ানোর আশা
কোম্পানি জানিয়েছে, ২০২৬ সালেও কিছু নগদ বহির্গমন থাকতে পারে। তবে একই বছরে আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতির আশা করছে তারা।
সম্প্রতি আর্থিক অবস্থার উন্নতির অংশ হিসেবে ফর্মুলা ওয়ান দলের ব্র্যান্ডিং অধিকার বিক্রি করে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি চুক্তিও করেছে অ্যাস্টন মার্টিন।
ছাঁটাইয়ের ঘোষণার পর টানা নয় দিনের দরপতনের পর শেয়ারের দামে প্রায় ৫ শতাংশ উত্থান দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার আভাস দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















