একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেনকে খালাস দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই রায়ে আগের দেওয়া ফাঁসির আদেশ বাতিল হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের একটি বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি করেই আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ও সাজা
এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে খান আকরামসহ মোট সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই মামলায় দণ্ডিত অন্যরা হলেন শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন, মো. মকবুল মোল্লা, খান আশরাফ আলী, রুস্তম আলী মোল্লা, শেখ ইদ্রিস আলী ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল।
তাদের মধ্যে খান আকরামসহ তিনজন কারাগারে থাকলেও চারজন শুরু থেকেই পলাতক ছিলেন। ২০১৭ সালের ৩১ মে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু করে।

অভিযোগের পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহ
মামলার নথি অনুযায়ী, একাত্তরে সংঘটিত সাতটি নির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের ২৬ মে বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ এলাকায় হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ১০ জন মুক্তিকামী মানুষকে গুলি করে হত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া জুলাই মাসে কচুয়া এলাকায় চারজনকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। নভেম্বর মাসে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই মুক্তিযোদ্ধা ও চারজন সাধারণ মানুষকে হত্যার অভিযোগও আনা হয়।
নির্যাতন ও ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ
মামলায় আরও বলা হয়, উদানখালী গ্রাম থেকে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও হত্যার পর তার মেয়েকে রাজাকার ক্যাম্পে আটক রেখে দীর্ঘ সময় নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয়।
গজালিয়া বাজারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়ে একজনকে হত্যা এবং তার স্ত্রীকে অপহরণ করে এক মাস ধরে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগও বিচারিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দণ্ডিতরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও পর্যালোচনার পর আপিল বিভাগ আজ খান আকরামকে খালাস দেওয়ার রায় ঘোষণা করল। ফলে তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বাতিল হয়ে গেল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















