তেহরানে আটক এক জাপানি নাগরিককে দ্রুত মুক্তি দিতে ইরানের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে টোকিও। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জল্পনার মধ্যে এই ঘটনায় নতুন করে কূটনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারের কড়া বার্তা
বুধবার জাপানের উপ-মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাসানো ওজাকি সাংবাদিকদের জানান, গত ২০ জানুয়ারি তেহরানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এক জাপানি নাগরিককে আটক করেছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি।
ওজাকি বলেন, আটক হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই জাপান সরকার ইরান সরকারের কাছে ওই নাগরিকের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তার পরিবার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে সরকার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। তবে ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি আর কোনো তথ্য দেননি।

গণমাধ্যমে পরিচয় প্রকাশ
রেডিও ফ্রি ইউরোপ/রেডিও লিবার্টির এক প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির নাম হিসেবে শিন্নোসুকে কাওয়াশিমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি জাপানের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা এনএইচকের তেহরান ব্যুরো প্রধান।
দুটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানানো হয়, কাওয়াশিমাকে গ্রেপ্তারের পর ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই কারাগার রাজনৈতিক বন্দি, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং সরকারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের আটক রাখার জন্য পরিচিত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সেখানে নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে।
লন্ডনভিত্তিক ফার্সি ভাষার স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ও বহুভাষিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে একই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এনএইচকের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে জাপান টাইমসের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে এনএইচক কর্তৃপক্ষ আটক ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের কর্মীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে এ মুহূর্তে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেওয়ার মতো অবস্থায় তারা নেই।
জাপান-ইরান সম্পর্ক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
টোকিও ও তেহরানের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টাও করেছিলেন।
জাপান তার অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে, ফলে অঞ্চলটির অস্থিরতা টোকিওর জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত দেওয়ায় জাপানের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তেহরানে জাপানি নাগরিক আটক হওয়ার ঘটনা শুধু একটি কনস্যুলার ইস্যু নয়, বরং তা বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















