জাতীয় পর্যায়ে গৌরবের আরেকটি দিন। একুশে পদক ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে দেশের নয়জন বিশিষ্ট নাগরিক ও একটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বিজয়ীদের হাতে পদক ও সম্মাননা তুলে দেন।
মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি
একুশে পদক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিল্পকলা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই পদক দেওয়া হয়। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করে।
প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপ্তকে ৩৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, চার লাখ টাকা এবং সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে সম্মান
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা সম্মাননা পান। চারুকলায় অধ্যাপক ডা. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মারিনা তাবাসসুম, নৃত্যে আর্থি আহমেদ, পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ পুরস্কৃত হন।
সংগীতে প্রয়াত আয়ুব বাচ্চুকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। তার পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার সহধর্মিণী ফেরদৌস আখতার চন্দনা।

ব্যান্ড সংগীত ও গণমাধ্যমে স্বীকৃতি
ব্যান্ড সংগীতে এবার সম্মাননা পেয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ড ওয়ারফেইজ। ব্যান্ডের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন দলনেতা শেখ মনিরুল আলম।
সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম মজুমদার একুশে পদকে ভূষিত হন।

আনুষ্ঠানিক আয়োজন
প্রধানমন্ত্রী সকাল প্রায় ১০টা ৫৩ মিনিটে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি পদক প্রদান পর্ব সঞ্চালনা ও বিজয়ীদের গুণগান পাঠ করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খাইয়াম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব মো. মফিদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, কূটনীতিক, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
একুশে পদক ২০২৬ আবারও প্রমাণ করল, দেশের সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমে অবদান রাখা মানুষদের জাতি কখনও ভুলে যায় না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















