আলবেনিয়ায় জ্যারেড কুশনার ও ইভাঙ্কা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্পকে ঘিরে জনবিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী তিরানায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কা এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলন ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের কারণে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আন্দোলনকারীরা এটিকে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধিতা নয়, বরং দেশের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই হিসেবেও তুলে ধরছেন।
সংরক্ষিত দ্বীপে বিলাসবহুল রিসোর্টের পরিকল্পনা

জ্যারেড কুশনারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আলবেনিয়ার সাযান দ্বীপ এবং উপকূলীয় এলাকায় দুটি বড় রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। সাযান দ্বীপটি জনবসতিহীন হলেও এটি জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বহু প্রজাতির প্রাণী ও পাখির আবাসস্থল হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে ওই অঞ্চলের ফ্লেমিঙ্গো পাখির উপস্থিতির কারণে আন্দোলনটি “ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব” নামেও পরিচিতি পেয়েছে।
কেন বাড়ছে জনরোষ
বিক্ষোভ কয়েক মাস আগে শুরু হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তা আরও তীব্র হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এসব ঘটনার পর জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
তিরানার প্রধান সড়কজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই শুধু রিসোর্ট প্রকল্পের বিরোধিতা করেননি, বরং দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগও দাবি করেছেন।

সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত
প্রধানমন্ত্রী এদি রামা প্রকল্পটির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, এটি আলবেনিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন উদ্যোগ এবং দেশের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
সরকার দাবি করছে, প্রকল্পের আগে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশগত মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে আন্দোলনকারীরা এসব আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথে নতুন প্রশ্ন
বিতর্কটি এখন আলবেনিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে পরিবেশ সংক্রান্ত নীতিমালা দুর্বল হলে দেশটির ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নে সরকার ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান এখন মুখোমুখি অবস্থায় পৌঁছেছে। ফলে এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও ক্রমেই বাড়ছে।
বহু বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প
দুটি রিসোর্ট প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও প্রকল্প এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত নকশা বা অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, তবুও এটি ইতোমধ্যে দেশটির সবচেয়ে আলোচিত উন্নয়ন উদ্যোগগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
আগামী মাসগুলোতে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয় কি না এবং সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই এখন সবার নজরে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















