যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভয়াবহ ইটন দাবানল কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও। সম্প্রতি প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দাবানল শুরুর ঠিক আগে একটি পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের কাছে উজ্জ্বল দুটি ঝলক দেখা গেছে। ফলে আগুনের উৎস নিয়ে চলমান তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
ভিডিওতে কী দেখা গেছে
প্যাসাডেনার একটি সাঁতার ও টেনিস ক্লাবের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দূরে একটি বিদ্যুৎ টাওয়ারের কাছে পরপর দুটি আলোর ঝলক দেখা যায়। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ১১ মিনিটে।
ভিডিওতে ওই সময় এলাকায় প্রবল বাতাসও দেখা যায়। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আইনজীবীরা দাবি করেছেন, ঝলকগুলো সেই এলাকার বিদ্যুৎ সরঞ্জাম থেকেই এসেছে, যেখানে পরে দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

মামলায় নতুন প্রমাণের দাবি
দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের পক্ষে থাকা আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, ভিডিওটি আগুনের সূত্রপাতের সঙ্গে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সম্ভাব্য সম্পর্কের নতুন প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
তাদের মতে, আগুন লাগার মুহূর্তের সবচেয়ে স্পষ্ট দৃশ্য এটি, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা আরও দাবি করেছেন, আগুনের পরপরই যে দ্রুত বিস্তার ঘটেছে, ভিডিওতে তারও প্রমাণ মিলেছে।
বিদ্যুৎ কোম্পানির অবস্থান
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বিদ্যুৎ কোম্পানি এখনো আগুনের জন্য দায় স্বীকার করেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরোনো ও অকার্যকর ওই বিদ্যুৎ লাইন তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং আগুনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার কাজ চলছে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পুরো ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র
ইটন দাবানল দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের অন্যতম ধ্বংসাত্মক অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়। ধ্বংস হয়ে যায় ৯ হাজারের বেশি স্থাপনা এবং পুড়ে যায় ১৪ হাজার একরেরও বেশি এলাকা।
আগুনের কারণে বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারায় এবং ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ কোম্পানির সম্ভাব্য দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তদন্ত এখনো চলমান
নতুন ভিডিও সামনে আসার পর তদন্ত আরও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন এবং আগুনের প্রকৃত উৎস নির্ধারণের চেষ্টা করছেন। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ইটন দাবানলের সূত্রপাত নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















